দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দুটি সিটি করপোরেশন ও ৩৫টি পৌরসভা এলাকার মাটির নিচ দিয়ে বিদ্যুত্ সঞ্চালন প্রকল্পের কাজ দীর্ঘ দুই বছরেও শুরু হয়নি। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের অভাবে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) ‘আন্ডার গ্রাউন্ড পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম প্রজেক্ট ইন ওয়েস্ট জোন এরিয়া’ নামের প্রকল্পটির কাজ শুরু করতে পারছে না। ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শফিকউদ্দিন বলেন, এই কাজটি অত্যন্ত জটিল এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিনির্ভর। তাই এই কাজে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে যেসব কোম্পানির অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে। এই প্রকল্পের ব্যয়ের একটি অংশ ওজোপাডিকো, একটি অংশ সরকার ও অধিকাংশ অর্থদাতা সংস্থা এডিবি বিনিয়োগ করবে। কেএফডব্লিউর প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর প্রকল্পটি এখন বিদ্যুত্ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাওয়ার পর অর্থমন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। তারপরই পাওয়া যাবে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন এখন সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে তিন বছর। দাতা সংস্থার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রকল্পটির কাজ দ্রুত শুরু করা সম্ভব হবে। ২০১৮ সালে ওজোপাডিকো খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) এলাকাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দুটি সিটি করপোরেশন ও ৩৫টি পৌরসভা এলাকার বিদ্যুত্ লাইন, ট্রান্সফরমার ও বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশনগুলো মাটির নিচ দিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে।
প্রথম পর্যায়ে এই অঞ্চলের খুুলনা ও বরিশাল সিটি করপোরেশনসহ যশোর পৌরসভা এলাকার বিদ্যুত্ লাইন, ট্রান্সফরমার ও বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশনগুলো মাটির নিচে নির্মাণ করা হবে। এরই মধ্যে জার্মান সংস্থা কেএফডব্লিউ খুলনা ও বরিশাল বিভাগ এবং বৃহত্তর ফরিদপুর জেলাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় মাটির নিচ দিয়ে বিদ্যুত্ সঞ্চালন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও শেষ করেছে। কিন্তু এখনো দাতা সংস্থার কাছ থেকে অর্থপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। সূত্র জানায়, এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহযোগিতায় গত বছরের ৮ ডিসেম্বর খুলনা, যশোর ও বরিশাল নগরীর ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপনের প্রাক-সম্ভাব্যতা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়। ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) সচিব আব্দুল মোতালেব জানান, প্রকল্প এলাকার বিদ্যুত্ লাইন, ট্রান্সফরমার ও বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশনগুলোও মাটির নিচে নির্মাণ করা হবে। এজন্য প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের সমস্ত ৩৩ কেভি, ১১ কেভি ও দশমিক ৪ কেভি লাইন মাটির নিচে স্থাপন করা হবে।
