বগুড়ায় কলেজছাত্রী ধর্ষণ

তুফানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৪৩

বগুড়ার কলেজছাত্রী ধর্ষণ মামলায় বহিষ্কৃত শ্রমিক লীগের নেতা তুফান সরকারসহ ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বগুড়ার প্রথম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম ফজলুল হক শুনানি শেষে চার্জ গঠন করেন। এছাড়া তুফানের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। আগামী ১৯ এপ্রিল মামলার বাদী ও ভিকটিমের সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য হয়েছে।

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে তারা হলেন—বগুড়া শহর শ্রমিক লীগের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক তুফান সরকার, তার স্ত্রী তাসমিন রহমান আশা, আশার বোন বগুড়া পৌরসভার ২ নম্বর সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর মারজিয়া হাসান রুমকি, তাদের মা লাভলী রহমান রুমি, তুফান বাহিনীর সদস্য আতিকুর রহমান আতিক, মো. মুন্না, আলী আজম দিপু, মেহেদী হাসান রূপম, সামিউল হক শিমুল ও এমারত আলম খান জিতু। এদের মধ্যে তুফান ছাড়া অন্যরা জামিনে আছেন।

আদালত সূত্র জানায়, ভালো কলেজে ভর্তির আশ্বাস দিয়ে তুফান সরকার ২০১৭ সালের ১৭ জুলাই এক ছাত্রীকে বগুড়া শহরের চকসূত্রাপুর চামড়াগুদাম লেনের বাড়িতে ডেকে নেয়। সেখানে ঐ ছাত্রীকে ধর্ষণ করে তুফান। এ ঘটনা কাউকে বললে বোমা মেরে বাড়ি উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

তুফানের স্ত্রী আশা, শ্যালিকা রুমকি ও শাশুড়ি রুমি উলটো ঐ ছাত্রীকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করে। ঐ বছরের ২৮ জুলাই তাদের নির্দেশে ছাত্রী ও তার মাকে পৌর কাউন্সিলর রুমকির বাদুড়তলার বাড়িতে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আতিক, দিপু, রূমন, মুন্না মিলে ছাত্রী ও তার মাকে চার ঘণ্টা ধরে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে। মোবাইল ফোনে এ দৃশ্য ধারণও করা হয়। প্রথমে কাঁচি দিয়ে মা ও মেয়ের চুল কেটে দেওয়া হয়। এতে সন্তুষ্ট হতে না পেরে নাপিত ডেকে মা-মেয়ের মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ২৯ জুলাই ছাত্রীর মা সদর থানায় তুফান সরকার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।