দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টিকারী গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ভয়াল ট্র্যাজেডি ও পিটিয়ে চার পুলিশ হত্যার সাত বছর পূর্ণ হলো গতকাল শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি)। কিন্তু আজও শেষ হয়নি বিচারিক কার্যক্রম। এ পর্যন্ত ৭৪ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে মামলার প্রধান আসামি (মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত) গাইবান্ধা-১ আসনের সাবেক এমপি জামায়াত নেতা আবদুল আজিজ ওরফে ঘোড়ামারা আজিজ।
তবে এ বছরের মধ্যেই মামলার রায় হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গাইবান্ধা জেলা দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শফিকুল ইসলাম শফিক।
ভয়াল এই দিন উপলক্ষ্যে গতকাল সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গায় পুলিশ হত্যা দিবস বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ, কুরআনখানি, দোয়া মাহফিল, তোবারক বিতরণ, নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে সংবর্ধনা ও স্মরণসভা।
স্মরণসভায় সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল্লাহিল জামানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল আউয়াল, বামনডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা, সুন্দরগঞ্জ ডি ডাবলু সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হাবিব সরকার, প্রেসক্লাব সভাপতি রশিদুল আলম চাঁদ, সুন্দরগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতি আহসানুল করিম চাঁদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল আলম, উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আব্দুল মান্নান মণ্ডল, সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) তাজুল ইসলাম, বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শম্স উদ্দিন বাবু প্রমুখ। পরে নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে সংবর্ধনা ও উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়।
নিহত পুলিশ সদস্য হযরত আলীর স্ত্রী লায়লা আকতার দীর্ঘ সময় পরেও অপরাধীদের বিচার সম্পন্ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নিহত পুলিশ সদস্যদের প্রত্যেক পরিবারকে সরকারিভাবে ১০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার কথা থাকলেও তারা এ পর্যন্ত ৮ লাখ টাকা পেয়েছেন।
