বাবা-মায়ের শখ পূরণ

হেলিকপ্টার-পালকিতে চড়ে বিয়ে করল ছেলে

আপডেট : ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:১১

বাবার শখ ছিল পালকিতে চড়িয়ে বিয়ে করাবেন ছেলেকে, মা চেয়েছিলেন ছেলে হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে করবে। বাবা-মা, দুই জনেরই শখ পূরণ করলেন প্রকৌশলী ফজলুর রহমান। ঘটনাটি ঘটেছে মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুরে।

মা-বাবার শখ পূরণে মাত্র ছয় কিলোমিটার দূরের পথ হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন ফজলুর রহমান। হেলিকপ্টারে কনের বাড়িতে পৌঁছতে সময় লেগেছে মাত্র চার মিনিট। হেলিকপ্টার থেকে নেমে বাদ্য-বাজনা বাজিয়ে পালকিতে চড়ে শ্বশুরবাড়ির অনুষ্ঠানস্থলে যান বর। নিজ বাড়ি থেকে হেলিকপ্টার পর্যন্ত ফজলুর রহমান আসেন পালকিতে চড়ে। মা-বাবার শখ পূরণে এমন কাজ করেছেন তিনি। তার কাণ্ড দেখে অবাক গ্রামবাসী।

গত বৃহস্পতিবার জেলার হরিরামপুর উপজেলার বাহিরচর গ্রামে এ বিয়ের আয়োজন করা হয়। বর ও কনের বাড়িতে ছিল উত্সুক মানুষের ভিড়। বর ফজলুর রহমান বাহিরচর গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদের ছেলে। তিনি ঢাকার সাভারে টেক্সটাইল কেমিক্যালের ব্যবসা করেন। কনে ফারিয়া জান্নাত মৌ একই উপজেলার হাসমিলান গ্রামের আব্দুল মজিদ মিয়ার মেয়ে।

দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে হরিরামপুর পাঠগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে হেলিকপ্টারে চড়েন বর ফজলুর রহমান। এ সময় সঙ্গে ছিলেন বড়ো ভাই বজলুর রহমান, বোন ও ভাগনি। দুপুর ১টা ৩৪ মিনিটে কনের বাড়ি এলাকার দিয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পৌঁছে বরযাত্রীবাহী হেলিকপ্টার। সেখান থেকে কনের বাড়ি যান পালকিতে চড়ে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূ নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে নিজ গ্রামে আসেন ফজলুর রহমান।

ফজলুর রহমানের বড়ো ভাই বজলুর রহমান জানান, হেলিকপ্টার ভাড়া দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। পালকি ১৫ হাজার টাকা এবং বাদ্যযন্ত্র ভাড়া করা হয় ৫ হাজার টাকায়।

নববধূ ফারিয়া জান্নাত মৌ বলেন, হেলিকপ্টার এবং পালকিতে চড়ে শ্বশুরবাড়ি যাব—এটা কখনো কল্পনা করিনি। এমন ব্যতিক্রমী বিয়ের আয়োজন দেখে আত্মীয়স্বজন এবং গ্রামবাসী খুশি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন সবাই।