ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) পরিণত হয়েছিল প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলন মেলায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের পুনর্মিলনীর প্রস্তুতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকতেই দেখা গেল আবেগে এক বন্ধু অপর বন্ধুকে জড়িয়ে ধরছে, কথা বলছে পুরোনো দিনের। এ যেন সময় হাতড়িয়ে বেড়ানোর দিন। আর অনুষ্ঠানের গাম্ভীর্য বাড়িয়ে তুলেছে বাহারি রকমের সাজ। ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের ভেতরের অংশ সাজানো হয়েছিল রঙিন কাগজ, বেলুন, ফুলসহ বাহারি রকম সামগ্রী দিয়ে। মাঠে তৈরি করা হয় অস্থায়ী মঞ্চ। এদিন ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল অতীতের সুখময় দিনের গল্পের সাক্ষী। আড্ডা, সেলফি, খাওয়া-দাওয়ায় মেতে ওঠেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ হলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। এতে স্মৃতি ও প্রাণের টানে সপরিবারে উপস্থিত হয়েছিলেন তারা।
সকালে প্রদীপ প্রজ্বালন ও উদ্বোধনী নৃত্যের তালে টিএসসির মিলনায়তনে শুরু হয় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা। অ্যালামনাইয়ের সভাপতি স্বপন কুমার সাহার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মলয় সাহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মিহির লাল সাহা। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক ও জগন্নাথ হল ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোল্লা আবু কাওছার প্রমুখ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে হল অ্যালামনাইয়ের সদস্য ও তাদের পরিবারবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধকের বক্তব্যে অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম জগন্নাথ হলের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জগন্নাথ হল ইতিহাসের সাক্ষী। ১৯৫৫ অথবা ১৯৫৬ সালে জগন্নাথ হল মিলনায়তনে পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশন হয়েছিল। তখন হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তার নেতৃত্বে সেখানে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে গঠিত পাকিস্তানে হিন্দু-মুসলমানদের স্বতন্ত্র নির্বাচনের পরিবর্তে যুক্ত নির্বাচন পদ্ধতির মতো ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তিনি বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধে জগন্নাথ হলের অবদান রয়েছে। এই হলের বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস রচনা হওয়া উচিত। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এই ইতিহাস প্রকাশ করা উচিত।
