রাজধানীর মগবাজারের দিলু রোডে আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাত (৩৫) মারা গেছেন। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঐ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মারা যায় জান্নাতের ছেলে রুশদি।
ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানিয়েছেন, জান্নাতুলের শরীরের ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। এছাড়া তার স্বামী শহিদুল কিরমানীর শরীরের ৪৩ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তিনিও আইসিইউতে চিকিত্সাধীন।
স্বজনদের কাছ থেকে জানা যায়, শহিদুল কিরমানী স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ঐ ভবনের তৃতীয় তলায় থাকতেন। আগুন লাগার পর প্রাণ বাঁচাতে শহিদুল ছেলে রুশদিকে কোলে নিয়ে নিচে নেমে আসছিলেন। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জান্নাত। কিন্তু ফ্ল্যাট থেকে বের হতে গিয়ে ঘন কালো ধোঁয়ার মধ্যে পড়ে যান তারা। একপর্যায়ে রুশদি শহিদুলের হাত থেকে পড়ে যায়। জান্নাতও বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। পরে তিনতলার সিঁড়িতেই রুশদির লাশ পাওয়া যায়।
রুশদির দাদা একটি জাতীয় দৈনিকের উত্পাদন ব্যবস্থাপক এ কে এম শহীদুল্লাহ জানান, তার একমাত্র ছেলে শহিদুল পুলিশ প্লাজায় ‘ভিআইভিপি এস্টেট ম্যানেজমেন্ট’ নামে একটি কোম্পানির ফাইন্যান্স ম্যানেজার। পুত্রবধূ জান্নাত বেক্সিমকো ফার্মাসিউক্যাল লিমিটেডের হিসাবরক্ষক ছিলেন। এছাড়া তিনি এক জন অনলাইন উদ্যোক্তা ছিলেন। রুশদি’স ক্লজেট নামে একটি অনলাইন পেইজের মাধ্যমে বাংলাদেশি শাড়ি বিক্রি করতেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে দিলু রোডের ঐ ভবনটিতে আগুন লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় তাদের একমাত্র সন্তান এ কে এম রুশদি (৪)। এছাড়া মারা যান ভবনের পাঁচতলার বাসিন্দা এইচএসসি পরীক্ষার্থী আফরিন জাহান যুথী (১৭) ও ভবনের নিচতলায় বসবাসরত বায়িংহাউজের অফিস সহকারী আব্দুল কাদের লিটন (৪০)। ৩
