ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং একটি মনস্তাত্বিক বিষয়

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২০, ১৮:২৫

নাজমা সুলতানা মেন্ডিজ ইন্টেরিয়র ডিজাইন নিয়ে কাজ করছেন দীর্ঘদিন। ইন্টারন্যাশনাল ব্র্যান্ড রেডিসন ব্লু সহ দেশীয় ব্র্যান্ড এসপিএল, বে ডেভেলপমেন্ট, আনোয়ার ল্যান্ডমার্ক-এর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এবারের আয়োজনে ইন্টেরিয়র ডিজাইন নিয়ে তিনি বলেছেন নিজের অভিজ্ঞতার কথা। কড়চার পাঠকদের জন্য সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হলো—

ই ন্টে রি য় র

নাজমা সুলতানা মেন্ডিজ

ইন্টেরিয়র ডিজাইনার

আমাদের বসবাসের জায়গাকে নান্দনিকভাবে স্বাস্থ্যকর এবং আনন্দদায়ক পরিবেশ তৈরির প্রক্রিয়াই ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং। ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং বা অন্দরসজ্জা একটি মনস্তাত্বিক বিষয়। একটি ভালো সজ্জিত বাড়ি কার্যকরভাবে যেমন আপনাকে সাচ্ছন্দ্য দেয়, উদ্বেগ থেকে মুক্তি দেয়, তেমনি সকলকে সুখী রাখে এবং মঙ্গল বয়ে আনে। তাই আমাদের জীবনে এর গুরুত্ব অনেক।

আমি যখন কোনো স্পেস ডিজাইন নিয়ে কাজ করি আমার প্রশ্নগুলো থাকে—কেমন ধরনের ঘর এটি? কারা এখানে বসবাস করবে? কতজন বসবাস করবে? কেমন করে ব্যবহার করবে এবং সেই সাথে খেয়াল করতে হবে ঘরটির মাপ কী? কোথায় কোন আসবাবপত্র বসবে এবং তার কার্যকারিতা কী?

তাই আমার উদ্দেশ্য থাকে এই সবকিছুর সাথে সম্পূর্ণ ঘরের রং, আলো এবং বর্ণ বিন্যাস যেন ভারসাম্য বজায় রেখে একটি নান্দনিক স্বাস্থ্যকর বসবাসের পরিবেশ তৈরি করে।

সাধারণত আমরা যেটা করি, আমাদের প্রয়োজনমতো আসবাবপত্র, গৃহসজ্জার উপকরণ, সরঞ্জাম যে কোনো শো-রুম বা দোকান থেকে কিনে আনি এবং ব্যবহার করি। অনেক সময় আমরা যে ভুলটি করি তা হচ্ছে বাজারে যেটি দেখতে সুন্দর সেটিকেই আমরা কিনে আনি। কিন্তু সেটি আমার ঘরের মাপের সাথে এবং অন্যান্য উপাদান শৈলীর সাথে কতটুকু মিলছে তা হয়ত খেয়াল করি না। ফলে পুরো ঘরের ভারসাম্যে একটি গোলমেলে ব্যাপার ঘটে যায়। তাই আসবাবপত্র কেনার আগে অবশ্যই মাপের ব্যাপারটি খেয়াল রাখতে হবে সেই সাথে এটির রং এবং গুণগত মান ও দেখতে হবে।

ঘরের রং এবং আলোর ব্যাপারটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ঢাকা শহরটি একটি ঘনবসতি শহর হওয়াতে এবং আশেপাশে অপরিকল্পিত উচ্চভবন থাকার কারণে ঘরে দিনের আলো প্রবেশে অনেক বিঘ্ন ঘটে। দিনের আলো মানসিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য খুবই প্রয়োজন। যেই ঘরে যত বেশি দিনের আলো আসতে পারে সেই ঘরটি তত বেশি স্বাস্থ্যকর। তাই ঘরের জানালার পর্দা খুব ভারী কাপড় দিয়ে অন্ধকার না করে হালকা রঙের এবং হালকা জমিনের ব্যবহার করা উচিত।

প্রাকৃতিক আলোর পাশাপাশি ঘরে অতিরিক্ত আলোর ব্যবস্থাও করতে হবে। যেমন—টেবিল ল্যাম্প, হ্যাংগিং ল্যাম্প, দেয়াল এবং সিলিংয়ে বিভিন্ন রকমের শেড ইত্যাদি। যা দিয়ে আলোর নাটকীয় গভীরতা তৈরি করা যায় এবং কোথাও আলোর স্বল্পতা যেন না থাকে।

ঘরের পর্দা, সোফা, চেয়ার কাভার, কুশন কাভার, বিছানার চাদর এবং অন্যান্য কাপড় যা আমরা ঘরের সৌন্দর্য বর্ধন এবং প্রয়োজনে ব্যবহার করি তার জমিন, রং এবং নকশা সবই ঘরের সম্পূর্ণ বর্ণ বিন্যাসের উপর নির্ভর করে যা মনে শান্তি বোধ এবং প্রশান্তি এনে দেবে—এমনভাবে নির্বাচন করা উচিত। যেটি বিশ্রামের ঘর সেই ঘরের পর্দা, সোফার কুশনের কাভার, কার্পেট যতটুকু সম্ভব হালকা এবং শীতল রঙের রাখা উচিত। আর যে ঘরটি উত্সবের, যেমন লিভিং রুম, ডাইনিং রুম সজ্জার কাপড় উজ্জ্বল রং হতে পারে। তবে অবশ্যই রঙের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। অন্দরসজ্জায় কাপড় নির্বাচন একটি উল্লেখযোগ্য উপাদান যেটি ভুল হলে ঘরটি ক্লান্তিকর হতে পারে।

ঘরের দেয়ালের রং ব্যক্তিত্ব, কর্ম, এবং জীবন যাপন শৈলীকে খেয়াল রেখেই নির্বাচন করা উচিত। যেখানে দিনের আলো বেশি থাকে সেই জায়গার দেয়ালটিকে গাঢ় রং করা যেতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে গোলমেলে রং যেন বিরক্তির কারণ না হয়!

যখন আমি একটি নতুন প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করি আমি জানতে চেষ্টা করি তাদের ব্যক্তিত্ব, কর্ম, জীবনযাপন শৈলী এবং পারিবারিক ঐতিহ্য। কারণ দিন শেষে এটি তার জীবনের গল্প—যা সচেতনভাবে সৃজনশীলতা, শান্তি এবং সুখকে উত্সাহিত করে।