মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে গবাদিপশু পালন একটি লাভজনক কাজ। গবাদিপশুর অন্যতম খাবার খড় ও ঘাস। এসব গোখাদ্য ছোটো ছোটো টুকরা করে কেটে পশুকে খাওয়ানো হয়। তবে প্রচলিত এ পদ্ধতিতে খড় ও ঘাস টুকরো করে কাটা সময় সাপেক্ষ। এতে করে খরচ বাড়ে আর সময়ও লাগে প্রচুর। তবে এক্ষেত্রে কৃষক ও খামারিদের কথা চিন্তা করে আর সাশ্রয় দামে এখন সৈয়দপুরের বিভিন্ন লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও মিনি কারখানায় তৈরি হচ্ছে উন্নতমানের খড় ও ঘাস কাটার মেশিন। যেটি তৈরি হয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। দেশীয় খামারিদের পাশাপাশি বিদেশি বিভিন্ন এনজিও এখন এসব খড় কাটা মেশিনগুলো কিনছে। সরেজমিনে দেখা যায়, সৈয়দপুরস্থ শহিদ জহরুল হক সড়কে (বিচালীহাটি রোড) অবস্থিত মডার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ, জামিল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ, বঙ্গবন্ধু সড়কে (রংপুর রোড) অবস্থিত আমেনা ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপসহ শহরে কমবেশি ১৮ থেকে ২০টি এ ধরনের ওয়ার্কশপ রয়েছে। যেখানে তৈরি হচ্ছে এসব মেশিন।
ঢাকার গাজীপুরের ডা. খালিল এইচ রবিন পেশায় ডাক্তার হলেও আছে খামারের ব্যবসা। তিনি জানান, এখানে এসে দেখেছি খড় কাটার মেশিনের মান খুবই উন্নতমানের। তাই দুটি অর্ডার দিয়েছি। মডার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের জাবেদ আলী জানান, প্রতি মাসে ১৮ থেকে ২০টি অর্ডার পাচ্ছি আমরা। প্রতি মাসে ১৫টির ওপরে সরবরাহ দিচ্ছি। বৈদ্যুতিক মোটরচালিত ও খুব সহজেই বহনযোগ্য এসব মেশিন তৈরিতে খরচ পড়ে ৩১ থেকে ৩৪ হাজার টাকার মতো। এটি দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় ৮০০ থেকে ১০০০ কেজি খড়, ঘাস ও ভুট্টা কাটা যায়। এখানকার বিভিন্ন ওয়ার্কশপ থেকে প্রতি মাসে গড়ে ৫০ থেকে ৬০টি মেশিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে। জামিল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের স্বত্বাধিকারী মো. জামিল জানান, এখানকার তৈরি মেশিন দেশের চাহিদার পাশাপাশি এখন বিভিন্ন বিদেশি এনজিও আমাদের অর্ডার দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এনজিও ইউএস এইড এর ইরলি সিসা ও সিম্মিট প্রজেক্ট সৈয়দপুরের তৈরি এসব মেশিন দিয়েই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাদের প্রজেক্ট পরিচালনা করছে।
বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং মালিক শিল্প সমিতি সৈয়দপুর জেলা শাখার সভাপতি এরশাদ হোসেন পাপ্পু জানান, দেশের আশি ভাগ চাহিদা মেটাচ্ছে এখানকার মেশিন। তবে এই শিল্প যতটুকু উন্নত আর প্রসার ঘটছে তা সম্পূর্ণ ব্যক্তি পর্যায়ের প্রচেষ্টায়।
