ঢাকার অদূরে প্রায় ৭০০ একর জমির ওপর অবস্থিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সৌন্দর্য মনোরম প্রকৃতি ও প্রাণীকুল। ক্যাম্পাসে চলাফেরার সময় গুঁইসাপ, বেজি, গিরগিটি, কাঠবিড়ালীসহ নানা প্রজাতির প্রাণী দেখা যায়। আবার দিনের আলো ফুরিয়ে অন্ধকার হলেই শিয়াল, বাগডাশ, হুতুম, লক্ষ্মীপেঁচাসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণীর হাঁকডাক অন্যরকম প্রশান্তি দেয়। এছাড়া প্রজাপতি ও পরীযায়ী পাখি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের সঙ্গে মিশে গেছে। প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ঝোঁপঝাড় পরিষ্কার করার নামে আগুন দিয়ে পরিবেশ ধ্বংসের ফলে হুমকির মুখে ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েক দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়াম সংলগ্ন এলাকা, সুইমিং পুলের চারপাশ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান হল ও ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পাশের এলাকা, আল-বেরুনী হলের সংলগ্ন কাশবনের মাঠ ও চিকিত্সাকেন্দ্রের পেছনে বনজঙ্গলে আগুন দিয়ে পোড়ানো হয়েছে। গত রবিবার মীর মশাররফ হোসেন হল সংলগ্ন তিন একরেরও বেশি জঙ্গল প্রায় চার ঘণ্টা ধরে পুড়তে থাকে। এ সময় দুটি শেয়ালকে আতঙ্কে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। এস্টেট কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ক্যাম্পাসের জঙ্গলগুলোতে সাপ, বেজি, শেয়াল, বিভিন্ন প্রজাতির পাখিসহ নানা ধরনের বন্য প্রাণীর বাসস্থান। কিন্তু প্রতি বছরই আগুনের কারণে প্রাণীদের খাবার ও বাসস্থানের সংকট সৃষ্টি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে বড়ো বড়ো দালান তৈরি করতে গাছ কাটছে। কিন্তু এতে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হচ্ছে সেটা কেউ ভাবছে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এখনই সতর্ক হতে হবে না হলে অদূর ভবিষ্যতে এসব প্রাণী হারিয়ে যাবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও মুখ্য উদ্যানতত্ত্ববিদ নুরুল আমিন বলেন, ‘অনেক সময় কে বা কারা আগুন জ্বালিয়ে চলে যায় তা আমরা জানতে পারি না। তবে আগুন লাগানোর খবর জানতে পারার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা নেভানোর চেষ্টা করি।’
