দিল্লির সংঘর্ষ ঘিরে গতকাল তীব্র উত্তেজনা ছড়াল ভারতের পার্লামেন্টের ভেতরে ও বাইরে। পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দুই কক্ষেই সোচ্চার ছিল কংগ্রেস, তৃণমূল, আপ, বিএসপিসহ অধিকাংশ বিরোধী দল। বিরোধীদের হট্টগোলের জেরে গতকাল মুলতবি হয় রাজ্যসভা। লোকসভার অধিবেশনও মুলতবি হয়েছে দফায় দফায়। এদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি দিল্লির সহিংসতাকে পরিকল্পিত গণহত্যা বলে উল্লেখ করেছেন। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার
শাসক দল বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, অধিবেশন ঠিকভাবে চললে বিবৃতি দিতে পারেন অমিত শাহ। লোকসভার বাইরে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির পাদদেশে চোখে কালো কাপড় বেঁধে ‘গান্ধীর তিন বাঁদর’ এর অনুকরণে প্রতিবাদে শামিল হন তৃণমূল এমপিরা। এতে কংগ্রেস এমপিদেরও যোগ দিতে দেখা যায়। দিল্লিতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রাণ গেছে অন্তত ৪৬ জনের। অভিযোগ উঠেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় আগেভাগে ব্যবস্থা নিলে সংঘর্ষ এড়ানো যেত।
কংগ্রেসের রাজ্যসভার দলনেতা গোলাম নবি আজাদ প্রশ্ন তোলেন, দিল্লিতে যখন সংঘর্ষ ছড়াচ্ছে, সরকার কি তখন ঘুমাচ্ছিল। দিল্লির এই সংঘর্ষ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিবৃতি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ইস্তফার দাবি তোলে কংগ্রেস। দিল্লির সংঘর্ষ নিয়ে আলোচনার দাবি স্পিকারও অবশ্য উড়িয়ে দেননি। তিনি বলেন, বিষয়টি অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আলোচনার যোগ্য। আপাতত আমাদের প্রাধান্য দেওয়া উচিত আগে স্বাভাবিক অবস্থা ফেরানো; কিন্তু বিরোধীরা তা মানতে নারাজ। হইহট্টগোলের পাশাপাশি ওয়েলে নেমে স্লোগান-বিক্ষোভ শুরু করেন এমপিরা। এর জেরে অধিবেশন মুলতবি করে দেন চেয়ারম্যান। রাজ্যসভার চেয়েও বেশি বিশৃঙ্খলা হয়েছে লোকসভায়। অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করে তুমুল হইহট্টগোল শুরু করেন বিরোধীরা। বিরোধী এমপিদের হইহট্টগোলে দফায় দফায় মুলতবি হয়ে যায় অধিবেশন।
‘পরিকল্পিত গণহত্যা’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। দিল্লির সহিংসতাকে পরিকল্পিত গণহত্যা বলে দাবি করলেন তিনি। গতকাল নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ‘বাংলার গর্ব মমতা’ নামে এক নতুন কর্মসূচির ঘোষণার সময় তৃণমূলনেত্রী এই মন্তব্য করেন।
