ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের (ঢামেক) শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের বেডে শুয়ে স্বজনদের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছিলেন, ‘বাবু তো নেই আমি জানি। জান্নাতও মারা যাবে, আমিও হয়তো বাঁচব না। আমার জন্য দোয়া করো।’ এ কথার একদিন পরেই গতকাল সোমবার সকালে শহীদুল নিজেও চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
গত বৃহস্পতিবার ইস্কাটনের দিলু রোডের পাঁচ তলা ভবনে আগুন লেগে মারা যান একই পরিবারের তিন জনসহ আরো দুই জন। ঘটনার দিন ভবনে আগুন লাগার বিষয়টি টের পেয়ে শিশু সন্তান রুশদিকে নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচের দিকে নামছিলেন বাবা-মা। এ সময় বাবার হাত ফসকে বেরিয়ে যায় রুশদি। আগুন, ধোঁয়ার সঙ্গে লড়াইয়ে আর টিকতে পারেনি শিশু রুশদি। বৃহস্পতিবার ভোরে ইস্কাটনের দিলু রোডের পাঁচ তলা ভবনের তৃতীয় তলার সিঁড়িতে শিশুটির পোড়া দেহ পড়েছিল। আগুনে শহীদুলের শরীরের ৪৩ শতাংশ ও তার স্ত্রী জান্নাতুলের ৯৫ শতাংশ পুড়ে যায়।
স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস যখন মারা যান তখন লাইফ সাপোর্টে ছিলেন শহীদুল। গতকাল ভোরে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের সমন্বয়কারী ড. সামন্ত লাল সেন। শহীদুলকে নিয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঐ ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচ জনে। শহীদুলের বাবা এ কে এম শহীদুল্লাহ জানান, তার দুই ছেলেমেয়ের মধ্যে শহীদুল বড়ো। দিলু রোডের ঐ বাসার তিন তলায় থাকতেন পরিবার নিয়ে। তাদের গ্রামের বাড়ি নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার ইটনা গ্রামে। বিআইভিপি নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার ছিলেন তিনি। পাশাপাশি আইসিএমএ নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রভাষক হিসেবেও কাজ করতেন। তার স্ত্রী জান্নাত বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের হিসাবরক্ষক ছিলেন।
শহীদুলের বড়ো বোন নাসরিন জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ইটনা গ্রামে স্ত্রী জান্নাত ও ছেলে রুশদির কবরের পাশেই শহীদুল কারমানির মরদেহ গতকাল বাদ আসর দাফন করা হয়েছে। শহীদুল কারমানির মামাতো বোন শেখ রেশমী বলেন, পুরো পরিবারটাই শেষ হয়ে গেল। আজীবন এই ক্ষত আমাদের বয়ে বেড়াতে হবে।
