নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় ছাত্র শিবিরের ব্রাশফায়ারে রাকিবুল ইসলাম (২৫) নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত রাকিবুল উপজেলার আমানউল্যাহপুর গ্রামের পাটোয়ারি বাড়ির সফিউল্লার ছেলে। তিনি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদস্য। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের আরো ৮ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ শিবিরের চার নেতা-কর্মিকে গ্রেপ্তার করেছে। নিহত রাকিবুলের মা গতকাল বাদী হয়ে ২৫জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন।
এদিকে খুলনায় ব্রিজ নির্মাণের কাজকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুরুতর আহত কয়রা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাদিউজ্জামান রাসেল (২৮) মারা গেছেন। উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি মারা যান। নিহত রাসেল কয়রা উপজেলার বাইলা হারানিয়া গ্রামের আব্দুস সাত্তার সানার ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার রাত ৮টার দিকে আমানউল্যাহপুর বাজারের একটি চায়ের দোকানে ছাত্রলীগ কর্মী হাবিব, রনি, মনু, রায়হান, রাকিবসহ ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় ছাত্রশিবিরের সশস্ত্র ক্যাডাররা সেখানে পৌঁছে অতর্কিত তাদেরকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোঁড়ে। এক পর্যায়ে শিবির কর্মীরা দোকানে ঢুকেও ছাত্রলীগ কর্মীদের কুপিয়ে জখম করে। হামলাকারীরা চলে গেলে স্থানীয় লোকজন গুলিবিদ্ধসহ আহত ৯ জনকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে আহত রায়হান ও রাকিবকে উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গতকাল দুপুরে রাকিব মারা যান।
আমান উল্যাহ্পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান জানান, এ এলাকায় শিবির একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। রবিবার তারা আবারও হামলা চালায়। এসময় গুলি করে এবং কুপিয়ে ছাত্রলীগের ৯-১০জন নেতাকর্মীকে আহত করে। এদের মধ্যে রাকিব নামের একজন মারা গেছে। এ ছাড়া আরিফ নামে আরো একজনের অবস্থা আশংকাজনক।
বেগমগঞ্জ থানার ওসি হারুন অর রশিদ চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় জড়িত শিবিরের ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়রা উপজেলার বাগালি ইউনিয়নের বাইলা হারানিয়া গ্রামের আলিম মাদ্রাসার পাশে বাতিকাটা খালের ওপর নির্মাণাধীন ব্রিজের ঢালাই কাজ চলছিল। গত রবিবার বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় হাফিজুর রহমান সানার তিন ছেলে তুহিন হোসেন, বাবু ও মিলন শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দেয়। একপর্যায়ে স্থানীয় মুরব্বিরা এসে ঘটনাটি মীমাংসা করে দেন। এরপর বিকাল ৪টার দিকে তুহিনদের চাচাতো ভাই কয়রা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাদিউজ্জামান রাসেল কয়েকজন নেতাকর্মীসহ ঘটনাস্থলে এলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক হাদিউজ্জামান রাসেল এবং ছাত্রলীগ কর্মী ইয়াছিন আরাফাত, রাজু, আব্দুল্লাহ, আবুল হাসান ও সেলিমসহ উভয় পক্ষের সাত-আট জন আহত হয়।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তুহিন ও মিলন সানা নামে দুই জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
