বাংলাদেশের নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে জনগণের দ্বিধা-দ্বন্দ্বও কমে আসছে। তারা অনেকটা নির্ধারণ করে ফেলেছেন কাকে তারা নির্বাচিত করবেন। এবাবের এই নির্বাচন বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য যে খুব গুরুত্ববহ তা তারা ভালো করেই জানেন।
বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির প্রত্যয় নিয়ে গত দশ বছর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা অক্লান্ত পরিশ্রম করে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে অনেকটা এগিয়ে নিয়ে গেছেন যা দেশে-বিদেশে সমাদৃত হয়েছে। বাংলাদেশের সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলা এখন আর রাজনৈতিক বা মুখের বুলি নয়, এখন তা দৃশ্যমান ও তথ্য-উপাত্ত দিয়ে প্রমাণিত। আজ অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি দেশের একটি বাংলাদেশ। সম্প্রতি জাতিসংঘ বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা দিয়েছে। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ২০০৬ সালের ৫৪৩ মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে আজ ১৭৫১ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এক দশকে বৈদেশিক রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে যা আজ ৩৩ বিলিয়ন ডলারের ওপর। দারিদ্র্যের হার হ্রাস পেয়ে হয়েছে ২১ দশমিক ৮ শতাংশ। মাত্র বার বছর আগে ২০০৬ সালে যেখানে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ।
অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি দেশের একটি আজ বাংলাদেশ। বিগত ১০ বছরে বাংলাদেশের জিডিপির আকার ৪ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা থেকে প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। মাত্র দশ বছরে বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বের সরকার দেশের সিংহভাগ গ্রামীণ মানুষের উন্নয়নে যে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে তা কারোরই দৃষ্টি এড়াবার মত নয়। কৃষি ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ, কৃষি উত্পাদন বৃদ্ধি, কৃষকদের জন্য কল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন তিনি। দশ বছর পূর্বে কৃষি উত্পাদনকে নিয়ে যাদের সংশয় ছিল, আজকের কৃষির উন্নতি তাদের কাছে সত্যি বিস্ময়। ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে সমৃদ্ধশালী করবার জন্য শহর থেকে গ্রাম সব অঞ্চলে বিদ্যুতের ব্যবস্থা, দুস্থ, অসহায় মানুষের জন্য দুস্থ ভাতা, স্বামী পরিত্যক্তা ও বিধবা নারীদের জন্য ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য শান্তিনিবাস, আশ্রয়হীনদের জন্য আশ্রয় প্রকল্প, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে চিকিত্সাসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াসহ হাজারো কাজ করেছে এই সরকার। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের এই সূচকগুলোর সঙ্গে বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বের সরকার স্বার্থন্বেষী মহলের হাজারো চাপের বিরোধিতার মাঝে যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার, দেশকে জঙ্গি ও মাদকমুক্ত করবার মত সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবিগুলো পূরণে সঠিক ও যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে। তার সুফল আমরা দেখতে শুরু করেছি।
এই হাজারো উন্নয়নের মাঝেও এই সরকারের যে-কোন ভুল-ত্রুটি নেই তা বলা যাবে না। যেমন, দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়া আমাদের মুক্তিযুদ্ধের এক বিশেষ প্রত্যাশা। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ না হলে কোনোভাবে উন্নয়নের সুফল স্থায়ীভাবে ভোগ করা সম্ভব নয়। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় বঙ্গবন্ধু কন্যা অসংখ্যবার ব্যক্ত করেছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও সুবিধাদি বাড়িয়েছেন, দুর্নীতি দমনের জন্য স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন তারপরেও প্রত্যাশিত ফলাফল আসেনি। এর কারণ যে সরকারের অক্ষমতা তা নয়। আমাদের ঔপনিবেশিক সরকারি যন্ত্র, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতারও যথাযথ আইনের অভাব দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম অন্তরায়।
বঙ্গবন্ধু কন্যা তাঁর দলের নির্বাচনী ইশতেহারে যে ২১টি পরিকল্পনার কথা বলেছেন তা বিশ্লেষণ করলে নির্দ্বিধায় বলা যায় এটিতে সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়াগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ শীর্ষক ইশতেহার বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যুগান্তকারী অঙ্গীকার বলে প্রতীয়মান হয়েছে আমাদের কাছে। আমার গ্রাম, আমার শহর শিরোনামে প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ, তরুণ যুব সমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করা এবং কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা প্রদান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা ও শিশুকল্যাণ, পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা, আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা- লক্ষ্য যান্ত্রিকীকরণ দক্ষ ও সেবামুখি জনপ্রশাসনসহ ইশতেহারের প্রতিটি পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত এবং সহজেই বাস্তবায়নযোগ্য। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে এমন পরিকল্পনা নিয়েই এগুতে হবে। আর এজন্য আশাবাদ ব্যক্ত করি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ যাদের চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ, স্বপ্নে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ তারা সঠিক সিদ্ধান্তটিই নিবেন আগামী সপ্তাহের নির্বাচনে।
n লেখক :প্রবাসী বিজ্ঞানী
