তরুণদের নির্বাচন ভাবনা

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:১৭

শিহাব উদ্দিন

একাদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩০ ডিসেম্বর। প্রার্থীরা জনগণের কাছে করছেন আকর্ষণীয় চিত্তাকর্ষক সব অঙ্গীকার। আমাদের এই উপমহাদেশে এটা একটা খুব কমন বৈশিষ্ট্য। অবশ্য এটা সারা বিশ্বেই আছে, কিন্তু বাংলাদেশে একটু বেশিই বাড়াবাড়ি চলে। সবচেয়ে বেশি চলে রেষারেষি প্রতিহিংসামূলক প্রচারণা যেটা একটা জাতির, একটা দেশের উন্নয়নের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তারপর নির্বাচনে জয়লাভ করার পর তাঁদের করা অঙ্গীকার ভুলে যান। জনপ্রতিনিধিদের এই সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসা দরকার। এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার জন্য আমাদের যেটা দরকার সেটা হলো শিক্ষিত, দক্ষ, ন্যায়পরায়ণ,  দেশপ্রেমিক জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করা। আমরা যারা নতুন ভোটার হয়েছি, তারাই পারি এই প্রতিহিংসার রাজনৈতিক আচরণের মূলোত্পাটন করতে। আমাদের এমন প্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে যিনি কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী।

একজন শিক্ষিত নেতাই পারেন একটি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করতে। নেতা শিক্ষিত হলে তবেই না তিনি শিক্ষার মর্যাদা বুঝবেন এবং তাঁর এলাকায় শিক্ষার প্রসার ঘটাবেন। আরো হতে হবে সত্, হ্যাঁ সত্ আর এটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সমাজে অসততা দূর করতে হলে দরকার নেতার সততা। নেতা অসত্ হলে সমাজ থেকে অসততা দূর হবে কিভাবে। দুর্নীতি, সুদ-ঘুষ, হত্যা, চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি, ডাকাতি এসব বন্ধ হবে যদি আমাদের নেতা হোন ন্যায়পরায়ণ। নেতা ন্যায়পরায়ণ না হলে সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা হবে না। নেতার যদি ত্যাগের মানসিকতা না থাকে, তবে তিনি কখনো উন্নয়নে আন্তরিকতা দেখাতে পারবেন না। আমরা যারা সাধারণ মানুষ, আমরা চাই আমাদের স্বার্থ রক্ষা হোক সর্বপর্যায়ে। আমরা এমন নেতা চাই না যিনি নিজের স্বার্থকে এলাকা এবং এলাকার মানুষের স্বার্থের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবেন। নেতা হবেন দেশপ্রেমিক, যিনি সত্যিকার অর্থে দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসবেন। আর এই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হবে তাঁর কাজের মাধ্যমে। দেশপ্রেমিক নেতা বা প্রতিনিধি মানে হচ্ছে তাঁর এলাকায় কোনো মানুষ একবেলা না খেয়ে থাকবে না, একটি শিশুও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে না, একটি মানুষও বাস্তুহারা হবে না, একটি মানুষও চিকিত্সার অভাবে মারা যাবে না। সমাজের উন্নয়ন বলতে আমরা জনগণ এসবই বুঝি। আর এই আকাঙ্ক্ষা যিনি পূরণ করার মনমানসিকতা রাখেন, আমাদের ভোট তাঁরই প্রাপ্য।

একজন নেতা যদি জবাবদিহি করার মনমানসিকতা রাখেন জনসাধারণের কাছে তাহলে তিনি কখনো এমন কাজ করবেন না যাতে সবার কাছে আসামি সাব্যস্ত হোন। তার কাছে এলাকার, মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নই মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সহজলভ্যতা। একজন নেতা বা জনপ্রতিনিধি হবেন জনগণের জন্য সহজলভ্য। আমরা যদি প্রতিনিধির কাছে পৌঁছাতে না পারি তাহলে তিনি আমাদের সমস্যা সমাধান করবেন কিভাবে।

সর্বোপরি দেশ আমাদের জনগণের, সংসদে আমাদের কথা বলার জন্য প্রতিনিধি বানানোর দায়িত্বও আমাদের। তাই আমাদের এমন কাউকে নির্বাচিত করা উচিত নয়, যিনি আমাদের বিশেষ করে তরুণ সমাজের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ। যদি আমরা যোগ্য কাউকে নির্বাচিত না করতে পারি তাহলে এই ব্যর্থতার দায়ভার আমাদেরই নিতে হবে। আর সে কারণে যদি দেশ পিছিয়ে পড়ে তাহলে সেই দায়ভারও আমাদের কাঁধেই পড়বে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়