মুক্তিযুদ্ধের নাটক ‘লাল জমিন’ পিরোজপুরে সাড়া ফেলেছে

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২০, ১৯:৩৫

নাসিম আলী

পিরোজপুর অফিস

 

দর্শকদের চেতনায় নাড়া দিয়ে পিরোজপুরে মঞ্চস্থ হলো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক ‘লাল জমিন’। মঞ্চ ও টিভির পরিচিত মুখ মোমেনা চৌধুরীর একক অভিনয় জেলা পুলিশ লাইনসের দরবার হলের মুক্তমঞ্চে দর্শকদের সম্মোহিত করে রেখেছিল কিছু সময়ের জন্য। পিরোজপুরে শিল্পীর একক অভিনীত নাটক এই প্রথম বলে তা দর্শক উপভোগ করেছেন ভিন্ন আমেজে, আলাদা মেজাজে। মফস্বল শহর পিরোজপুরে নাট্যচর্চার ইতিহাস ৬০ বছরের বেশি নয়। যাত্রাশিল্পেরও আনাগোনা ছিল আরো ২০/২৫ বছর আগে। শহরের একদল সৌখিন ও পেশাদার যাত্রাশিল্পী ছিলেন কুশীলব। ৬০-এর দশকের শেষে ও ৭০-৮০ দশকে ৭/৮টি নাট্যদল আর ক্লাব শহরের গোপাল কৃষ্ণ টাউন হল মঞ্চে আর কলেজ স্কুলভিত্তিক হলরুমে কখনো স্বরচিত বা ঢাকা-কলকাতার নাট্যকারদের নাটক-নাটিকা মঞ্চায়ন করেছে। স্বাধীন বাংলাদেশে নাট্যচর্চার এই ধারা আরো গতি পায়। ঢাকার মহিলা সমিতি ও গাইড হাউজের সাড়া জাগানো কিছু নাটক পিরোজপুরের টাউন হল মঞ্চ ও মুক্তমঞ্চে মঞ্চায়িত হতে থাকে দেশের অন্যান্য শহরগুলোর মতো। মঞ্চ মালঞ্চ, দিশারি, রূপান্তর, উদীচী, নাট্যচক্র, বনানী, কৃষ্ণচূড়া থিয়েটার ইত্যাদি গ্রুপ থিয়েটারকে এ শহরে অনেকদিন ধরে প্রায়শই মঞ্চে দেখা যেত। এক সময় জেলা শহর পিরোজপুরে এই নাটক পাড়া যেন ক্রমান্বয় গতি হারায়। এ নাট্যদলগুলো এখন অনেকটা ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিচ্ছে। তারপরও জেলা শিল্পকলা একাডেমি কিছুটা ক্ষুদ্র পরিসরে এ ধারা বজায় রাখছে। নাট্যাঙ্গনের এ খরার মাঝে পিরোজপুরে ঢাকার শূন্যন রেপার্টরি থিয়েটারের এ প্রয়াসটি পিরোজপুরের দর্শকদের চেতনায় ফেলেছে সুদূরপ্রসারি ছাপ। ‘লাল জমিন’ নাটকের গল্পে ১৩ ডিঙিয়ে ১৪ বছর ছুঁইছুঁই এক কিশোরী কন্যার কথা প্রাঞ্জলভাবে ফুটে উঠেছে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুরের পুলিশ লাইনসের মুক্তমঞ্চে। সাবলীল উপস্থাপনায় মোমেনা চৌধুরীর একক অভিনয় সম্বলিত ৭১ মিনিটের এই নাটকটির পিরোজপুরে ছিল ২২৩তম মঞ্চায়ন। মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে নারী সংগ্রামী জীবনের সফল নাট্যপ্রকাশ এই লাল জমিন সারাদেশের মতোই পিরোজপুরের নানা শ্রেণি-পেশা, নানা রুচি ও নানা বয়সী মানুষকে ভাবাবেগে আপ্লুত করে। বাঙালি মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পেয়েছে স্বাধীনতা। লাল জমিনের মঞ্চায়ন দর্শকদের যেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নতুন করে উজ্জীবিত করেছে।