তরুণ প্রজন্ম হোক স্বপ্নদর্শী ও আত্মবিশ্বাসী

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২০, ২১:৪৭

ইয়াছির আরাফাত

সফলতার সূচনায় থাকে স্বপ্ন, আত্মবিশ্বাস কাজ করে জ্বালানি হিসেবে। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে যে সকল ঘটনা প্রাকৃতিক উপায়ে নিয়মিতই ঘটে থাকে তার মধ্যে অন্যতম হলো ‘স্বপ্ন’। বিভিন্ন কাল্পনিক ঘটনা যা মানুষ ঘুমন্ত অবস্থায় অবচেতনভাবে অনুভব করে সাধারণত তাকে স্বপ্ন বলা হয়। সঠিক শ্রেণিবিন্যাস করা না গেলেও প্রকৃতি অনুযায়ী স্বপ্ন বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, যেমন:সাহসি, ভয়ঙ্কর, রহস্যময়, উত্তেজনাপূর্ণ ইত্যাদি। প্রাকৃতিক স্বপ্নের এই ঘটনাগুলো যিনি স্বপ্ন দেখেন তার নিয়ন্ত্রণের ভিতর থাকে না। তবে কাল্পনিক ঘটনার বাইরে এক ধরনের স্বপ্ন রয়েছে যার নিয়ন্ত্রণ মানুষের দ্বারা সম্ভব। এপিজে আবদুল কালাম বলেছেন প্রকৃত স্বপ্ন সেটাই, যা পূরণের প্রত্যাশা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না। আধুনিক পৃথিবীতে যত ধরনের উদ্ভাবন তার অন্তরালে যে বিষয়টি লুকায়িত তা হলো ‘স্বপ্ন’। মার্কনি স্বপ্ন দেখতেন সৃষ্টিকর্তার অলৌকিক শক্তিকে নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে কাজে পরিণত করার। তার স্বপ্ন যে ভুল ছিল না সেটা তিনি প্রমাণ করেছেন বেতার ও টেলিভিশন আবিষ্কারের মাধ্যমে। স্বপ্ন দেখেছিলেন রাইট ভ্রাতৃদ্বয়। তারা পাখির মতো করে আকাশে উড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন বলেই উড়োজাহাজ আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। আলেকজান্ডার গ্রাহামবেলের স্বপ্ন ও গবেষণার ফলে আজ আমরা দেশ থেকে দেশান্তরে বাতাসকে কাজে লাগিয়ে কথা বলতে পারছি।

জীবনের জন্য যেমন অক্সিজেন প্রয়োজন, তেমনি জীবনের স্বপ্নকে সফল করতে প্রয়োজন আত্মবিশ্বাসের। আপনি জীবনে সফল নাকি ব্যর্থ হবেন সেটা নির্ভর করবে আপনি কতটা আত্মবিশ্বাসী তার ওপর। বার বার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর আবার নতুন করে শুরু করার প্রাণশক্তি যোগায় আত্মবিশ্বাস। প্রচলিত আছে টমাস আলভা এডিসন ১০০০-এর অধিকবার প্রচেষ্টার পর বৈদ্যুতিক বাল্ব আবিষ্কারে সফল হয়েছেন। তার আত্মবিশ্বাস ও স্বপ্নজয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষাই তাকে সফলতা এনে দিয়েছে। হাত-পা বিহীন জন্ম নেওয়া নিক ভুজিসিকের কথা আমরা জানি। তার স্বপ্ন ছিল একজন অনুপ্রেরণা সৃষ্টিকারী বক্তা হবেন। ৫২ বার ব্যর্থ হওয়ার পর ৫৩ বারে তিনি পাঁচ মিনিট বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন সেটাও আবার মাত্র ১০ জন দর্শকের সামনে। তিনি হাল না ছেড়ে এগিয়ে গিয়েছেন এবং সফল হয়েছেন। শুধু তাই নয় হাত-পা ছাড়া জন্ম নিয়েও তিনি নিজের আত্মবিশ্বাস ও প্রচেষ্টায় কম্পিউটারে মিনিটে ৩২টি শব্দ লেখার সামর্থ্য অর্জন করেন।

মানুষ যখন হাঁটতে শিখে তখন বার বার পড়ে যায়, ব্যথা পায় তবুও আবার উঠে দাঁড়িয়ে পুনরায় চেষ্টা করে। তখন তো স্বপ্ন বা আত্মবিশ্বাস কি সেটা  বোঝার মতো বোধশক্তি হয় না। কিন্তু তাতেই যদি বার বার চেষ্টা করে নিশ্চিতভাবে সফল হওয়া যায় তাহলে বোধশক্তি হওয়ার পরে মানুষ কেন অল্পতেই হতাশ হয়ে ব্যর্থতাকে সহজে বরণ করে নিবে? মানুষ কোনো কাজের আশানুরূপ ফল না পেলে বা কোনো ইচ্ছে পূরণ না হওয়ার ফলে হতাশ হয়ে পড়ে। নির্দিষ্ট গন্তব্যে বা লক্ষ্যে পৌঁছানো অসম্ভব মনে করে হাল ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতাই হতাশার মূল কারণ। আমাদের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন জয়ের মূল প্রতিবন্ধক হলো হতাশা। এই হতাশা দূর করার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হলো স্বপ্ন দেখা, স্বপ্নকে সযত্নে লালন করা। স্বপ্নকে লালন করলে সেটা বাস্তবায়িত হবেই। পৃথিবীর বিখ্যাত কয়েক জন স্বপ্নবাজ সফল তরুণের কথা বলি—মার্ক জাকারবার্গ যখন বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহূত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ফেসবুক’ প্রতিষ্ঠা করেন তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। ব্লেইক রস তার ১৯ বছর বয়সে ‘মজিলা ফায়ারফক্স’ ব্রাউজার তৈরি করেন। ফটো আপলোডের জন্য জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ‘ডেইলিবুথ’ প্রতিষ্ঠা করেছেন জন হুইটলি ২১ বছর বয়সে। ম্যাট মুলানভেগ ‘ওয়ার্ডপ্রেস’ তৈরি করেন মাত্র ২০ বছর বয়সে। এছাড়া আরো কত শত উদাহরণ তো আমাদের চারপাশেই রয়েছে। তাদের স্বপ্ন ছিল, সাহস ছিল, ঝুঁকি গ্রহণের জন্য তারা প্রস্তুত ছিল বলেই কিন্তু সফল হতে পেরেছে।

আমাদের তরুণ প্রজন্ম স্বপ্ন দেখতে ভয় পায়। এই ভয়কে জয় করে বিশ্বজয়ী স্বপ্ন দেখতে হবে। যে স্বপ্নের কথা জেনে অন্য কেউ অবাক হয় সেই স্বপ্ন দেখতে হবে। যে স্বপ্নের জন্য আপনি মরতেও রাজি এমন স্বপ্ন দেখতে হবে। স্বপ্ন না থাকলে আপনি কখনো উন্নতি করতে পারবেন না, কারণ স্বপ্নই জীবনের জ্বালানি। নিজের সামর্থ্য ও ভালোলাগাকে খুঁজে বের করে জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। ‘মানুষ তার স্বপ্নের সমান বা তার থেকেও বড়ো’ এই কথাটি ধারণ করতে হবে মননে, সঙ্গে থাকতে হবে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস। কারণ স্বপ্ন বাঁচে আত্মবিশ্বাসে। সফলতার জন্য স্বপ্ন ও আত্মবিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য উপাদান হিসেবে কাজ করে। নিজেকে নিয়ে স্বপ্ন দেখুন এবং তা পূরণের প্রতিজ্ঞা করুন। সমস্ত ঝুঁকি গ্রহণ করুন সাহসের সঙ্গে। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পরিশ্রম করে যান, সঠিক সময়ে সফলতা নিজেই আপনার দরজায় কড়া নাড়বে।

n লেখক : সাবেক শিক্ষার্থী, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর