‘শালগাছে ফুটেছে সারজম, মহুয়ায় ফুটেছে মাতকম’, সেই সঙ্গে রঙে-গানে-নাচে-আর-মাদলের তালে তালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতালরা মেতেছে প্রকৃতির সুর ‘বাহা পরবে’। ‘বাহা পরবে’র মাধ্যমে প্রতিবছর ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ না করা পর্যন্ত সাঁওতালরা মাতকমের মধু খায় না, খোঁপায় দেয় না সারজম ফুল।
‘বাহা’ সাঁওতালি শব্দ। বাংলায় তার আক্ষরিক অর্থ হলো ফুল। পরব অর্থাত্ উত্সব। অতএব ‘বাহা পরব’ বাংলা অর্থে ‘ফুল উত্সব’। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষ মিশে একাকার হয়ে যায় বাহা উত্সবে।
প্রকৃতিতে ঋতুরাজ বসন্ত আসে হরেক রকমের ফুলের সৌন্দর্য নিয়ে। নতুন ফুল ফোটার আনন্দে ও দেবতাকে তুষ্ট করতে এ সময় সাঁওতালরাও মেতে থাকে নাচে আর গানে।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ১৯ কিলোমিটার পশ্চিমে উপজেলার কামদিয়া ইউনিয়নের মোত্তালেব নগর উচ্চ বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ের মাঠে সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর ছয়টি ইউনিয়নের ১৭ গ্রামের ১ হাজার ১৬৯ পরিবারের লোকজন বুধবার মেতে ওঠে বাহা পরব বা বসন্ত উত্সবে।
এ উপলক্ষ্যে সকালে পূজা-অর্চনা হয়। এরপর আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করে সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর আটটি সাংস্কৃতিক দল। দূরদূরান্ত থেকে সাড়ে ৯ হাজারেরও বেশি দর্শক এ অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। উত্সব উপলক্ষ্যে মাঠে বসে সর্বজনীন মেলা। মেলায় স্টলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব ঐতিহ্য সামগ্রীও প্রদর্শিত হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাহা পরব উদ্্যাপন কমিটি আহ্বায়ক এমিলি হেমব্রম। বক্তব্য রাখেন—গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ প্রধান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ বর্মন, গাইবান্ধা উদীচীর সভাপতি জহুরুল কাইয়ুম, গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মেহেদী হাসান, সাংস্কৃতিক কর্মী দেবাশিষ দাশ দেবু, রণজিত্ সরকার, অবলম্বনের নির্বাহী পরিচালক প্রবীর চক্রবর্তী, আদিবাসী নেতা ফিলিমন বাস্কে, আদিবাসী নেত্রী কেরিনা হাসদা প্রমুখ।
