সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন

সাংবাদিকরা খবরের পেছন লেগে থাকবেই, এতে দোষ দেখছি না :হাইকোর্ট

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২০, ২২:৩৪

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতের উপস্থাপনের আগেই গণমাধ্যমে কীভাবে প্রকাশ পেল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট। গতকাল বুধবার রাষ্ট্রপক্ষ থেকে প্রতিবেদনটি পেশের পর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এ প্রশ্ন তোলেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, এ রিপোর্ট মিডিয়ায় কীভাবে গেল? হয় অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় অথবা তদন্ত সংস্থার কাছ থেকে এ রিপোর্ট সাংবাদিকরা পেয়েছেন। আদালতে উপস্থাপনের আগেই যদি এভাবে মিডিয়ায় রিপোর্ট প্রকাশ পায় তাহলে জনমনে এক ধরনের পারসেপশন (ধারণা) তৈরি হয়। এ পর্যায়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার বলেন, আমিও সাংবাদিক ছিলাম, আমি কাউকে কোনো রিপোর্ট দেইনি। যে কারণে সাংবাদিক বন্ধুরা এখন আমাকে দেখতে পারেন না।

বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম বলেন, সাংবাদিকদের কাজই হলো খবরের পেছনে লেগে থাকা। তারা খবর সংগ্রহ করবেই। আমরা তো এখানে সাংবাদিকদের কোনো দোষ দেখছি না। ডিএজি বলেন, এভাবে মিডিয়ায় রিপোর্ট প্রকাশ আদালত অবমাননার শামিল। তখন বিচারপতি           ইনায়েতুর রহিম বলেন, সাংবাদিকরা রিপোর্ট পেলে ছাপাবে এটাই স্বাভাবিক। যদি আপনি ঐ রিপোর্টের সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদনের অমিল পান তখন তাদের দোষারোপ বা ধরার সুযোগ রয়েছে। আদালতে দাখিলের আগেই আপনাদের (অ্যাটর্নি কার্যালয়/তদন্ত সংস্থা) কাছ থেকে সাংবাদিকদের হাতে গেছে যার দায় কাউকে না কাউকে স্বীকার করতেই হবে।

হাইকোর্টের নির্দেশে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তের সার্বিক অগ্রগতি প্রতিবেদন রবিবার হাইকোর্টে দাখিল করে তদন্ত সংস্থা র্যাব। ঐ প্রতিবেদন নিয়ে শীর্ষ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইত্তেফাক। ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যায় দুই ব্যক্তি জড়িত। এদের কাউকেই শনাক্ত করা যায়নি। তবে তাদের শনাক্তের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ল্যাব কাজ করছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে রুনির ঘনিষ্ঠ বন্ধু তানভীর রহমানের আচরণ খুবই রহস্যজনক। তদন্তের এ পর্যায়ে সে জড়িত নয়—এই কথা বলাটা যুক্তিযুক্ত হবে না।

গতকাল এই প্রতিবেদন পেশের পর এ নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। যেহেতু আবেদনের ওপর রুল বিচারের বিষয়টি চলমান রয়েছে সেহেতু এ বিষয়ে শুনানি ও আদেশ প্রদানের এখতিয়ারগত কোনো বাধা নেই। যেহেতু রাষ্ট্রপক্ষ প্রশ্ন তুলেছে সেহেতু কোনো ধরনের আদেশ না দিয়ে আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলো। এ সময় তানভীরের আইনজীবী ফাওজিয়া করিম ফিরোজ উপস্থিত ছিলেন।