মানবিক সহজাত গুণাবলির মধ্যে পরোপকার উল্লেখযোগ্য। এই মহত্ গুণ যার মধ্যে বিদ্যমান, তিনি সমাজ তথা রাষ্ট্রীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে উত্তম কাজের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেন। ইসলামেও তাই পরোপকারকে সর্বোত্তম কাজ বলে অভিহিত করা হয়েছে এবং মানবকল্যাণে এই গুণের গুরুত্ব অত্যধিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা বিভিন্নভাবে মানুষের উপকার করতে পারি। এই উপকার সেবাদান, কায়িক পরিশ্রম, অর্থনৈতিক সাহায্য কিংবা সত্ পরামর্শ বা কার্যের দ্বারা করতে পারি। দুনিয়ার মহত্ লোকেরা পরহিত ব্রতে নিজেদের বিলিয়ে দিয়েছেন। অর্থনৈতিক সাহায্য প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সূরা আল বাকারায় ইরশাদ হয়েছে :‘ইনতুবদুচ্ছদাকাতি ফানিইম্মা হিয়া ওয়াইন তুখফুহা ওয়া তু’তুহাল ফুকারাআ ফাহুয়া খাইরুল্লাকুম’ অর্থ :যদি তোমাদের দান-সদকাগুলো প্রকাশ্যে করো, তাও ভালো। তবে যদি গোপনে অভাবীদের দাও, তাহলে তোমাদের জন্য এটিই বেশি ভালো।’
পবিত্র কোরআনে আরো বলা হয়েছে, ‘ওয়া আম্মস্সায়িলা ফালা তান্হার’। অর্থ :কোনো গরিব-দুঃখীজন কিছু চাইলে তাকে ধমক দিয়ে ফিরিয়ে দিওনা। আদর্শের মূর্তপ্রতীক আমাদের প্রিয় নবিকরিম (স)-এর জীবনেও আমরা পরোপকারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেখতে পাই। তার মহান অন্তঃকরণ ছিল সমবেদনা ও পরোপকারে পরিপূর্ণ। তিনি রোগ-ব্যাধি ও দরিদ্র মানুষকে সেবা-যত্ন করে আনন্দ পেতেন। রোগাগ্রস্ত ব্যক্তিকে তিনি সেবার মাধমে পরোপকার করার নির্দেশও দিয়েছেন। তিনি বলেছেন :যে ব্যক্তি কোনো পীড়িত ব্যক্তিকে দেখতে পথ চলা আরম্ভ করে, সে যেন আল্লাহর রহমতের দরিয়ায় সাঁতরাতে থাকে। যখন রোগীর কাছে উপস্থিত হয়, তখন রহমতের দরিয়ায় ডুবে যায়।’ তিনি আরো একটি হাদিসে বলেছেন :বিধবা ও দরিদ্রের সেবক আল্লাহর পথে যোদ্ধার তুল্য এবং ক্ষধার্তকে অন্ন দাও, পীড়িতের সেবা করো এবং বন্দিদের মুক্তি দাও।
পরোপকারে রয়েছে আত্মতৃপ্তি এবং সমাজের মঙ্গল। নবি করিম (স) আর একটি হাদিসে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন :‘যে তার প্রতিবেশীকে উপোষ রেখে পেট পুরে খায়, সে মোমিন নয়।’ এই পবিত্র হাদিসের মধ্যে নিহিত রয়েছে পরোপকারের মূল কথাটি। সমাজের মানবিক কল্যাণে আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত আমাদের পরোপকারের তৌফিক এনায়েত করুন।
—লেখক :সভাপতি, বাংলাদেশ সিরাত মিশন, ঢাকা
