সালাতে জানাজা হচ্ছে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া। জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে এ সালাত আদায়ের পর অনেক মানুষ আবারও মোনাজাত বা দোয়া করতে ইমাম বা আলেম-উলামাদের চাপ দিয়ে থাকেন। সালাতের চারটি অর্থ রয়েছে, দোয়া, তাসবিহ, রাহমত ও ইস্তেগফার। ইসলামি শরিয়াতের নীতি অনুযায়ী, মানুষ যতই পাপিষ্ঠ হোক তার জন্য দোয়া চাইতে হবে। বিশেষ করে মরে গেলে তো অবশ্যই দোয়া করতে হবে। হাদিসে এসেছে—‘দোয়া হলো ইবাদতের মগজ।’ তাই এক জন মৃত মানুষ মুসলিম হলে অবশ্যই তার জন্য জানাজার সালাত পড়তে হবে; পড়া উচিত্। পতিতালয়ে যারা দেহব্যবসা করে থাকেন, তারা কাজটি চরম অন্যায় করছেন, হারাম এবং ঘৃণিত বা নিষিদ্ধ কাজ করছেন; এতে কোনো সন্দেহ নেই। আবু মাসউদ আনসারি (রা) থেকে বর্ণিত রাসুল (স) বলেছেন—‘কুকুরের মূল্য, পতিতার উপার্জন ও গণকের পারিতোষিক নিষিদ্ধ’ (বুখারি, হাদিস নম্বর ২২৮২)। অন্য হাদিসে এসেছে—নবি (স) লানত বা অভিসম্পাত করেছেন উল্কি অঙ্কনকারিণী, উল্কি গ্রহণকারিণী, সুদগ্রহিতা ও সুদদাতাকে। তিনি কুকুরের মূল্য ও পতিতার উপার্জন ভোগ করতে নিষেধ করেছেন (বুখারি-৫৩৪৭)। অতএব পতিতাবৃত্তি খুবই ঘৃণিত কাজ; এতে কোনো সন্দেহ নেই।
তবে শরীয়তের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী তাদের মৃত্যুর পর তাদের জানাজা পড়তে হবে; পড়াতেও হবে। শুধু তাই নয়, জানাজা পড়ানো ও জানাজায় অংশগ্রহণ করা ‘ফরজে কেফায়া’ হিসেবে শরিয়তে ঘোষিত হয়েছে। তবে এ ধরনের ব্যভিচারের মতো পাপকাজে যারা লিপ্ত, বা যারা আত্মহত্যা করে মারা যায়, তাদের জানাজার ব্যাপারে ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞদের ঐকমত্য অভিমত হলো, জানাজায় মান্যবর কোনো আলেম উপস্থিত থাকতে পারবেন না। সাধারণ শ্রেণির লোকজনই এ ধরনের ব্যক্তির জানাজা ও দাফন-কাফন সম্পন্ন করবে। তা যেন আড়ম্বরপূর্ণ না হয়। ওলামায়ে কেরাম এই অভিমতটা এজন্য দিয়েছেন যে, এখান থেকে এ ধরনের পাপের সঙ্গে জড়িত অন্য লোকেরা যেন শিক্ষা গ্রহণ করে এবং পাপ কাজ থেকে ফিরে আসে।
হাদিসের বিশুদ্ধ গ্রন্থ বোখারি শরিফে এসেছে, প্রত্যেক মুসলমানের ওপর অন্য মুসলমানের পাঁচটি হক রয়েছে। সালামের উত্তর দেওয়া, কোনো মুসলমান অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাওয়া, মুসলমানের জানাজা আদায় করা, কেউ নিমন্ত্রণ করলে সাড়া দেওয়া এবং কেউ হাচি দিলে তার উত্তর দেওয়া। অন্য হাদিস শরিফে স্পষ্ট আছে—‘যে ব্যক্তি কালিমা বলবে এবং এটা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করবে—সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ কথা শুনে সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, যদি সে ব্যভিচার করে, তবুও কি সে জান্নাতে যাবে? বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবাদের বললেন, হ্যাঁ যদি সে যেনা বা ব্যভিচারও করে, তবুও সে জান্নাতে প্রবেশ করবে (যদি এ বিশ্বাসের ওপর মৃত্যুবরণ করে)। তাই পতিতাদেরকে দূরে ঠেলে না দিয়ে দ্বীনের পথে ডাকি, আমরা চাই তারা নিষিদ্ধ কাজ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুক। পুরুষরা যেন সেখানে আর না যায়।
— লেখক : পিএইচডি গবেষক, ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
