পিরোজপুরের সাবেক এমপি এ কে এম এ আউয়াল দম্পতিকে জামিন না দেওয়ায় জেলা ও দায়রা জজকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। গতকাল বৃহস্পতিবার ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। আর সুপ্রিম কোর্টের সাবেক রেজিস্ট্রার ও প্রাক্তন জেলা জজ ইকতেদার আহমেদ ইত্তেফাককে বলেছেন, আইন অনুসরণ না করে অন্যায়ভাবে কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে সেক্ষেত্রে অধস্তন আদালতের বিচারকদের সংগঠন জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতি দেওয়ার সুযোগ ছিল। পিরোজপুরের ঘটনায় বিবৃতি না দেওয়াটা সংগঠনেরই ব্যর্থতা। ব্যারিস্টার শফিক বলেন, কোনো বিচারকের আদেশ মনঃপূত না হলে উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ আছে। কিন্তু সেই সুযোগ গ্রহণ না করে আইনজীবীদের আদালত বর্জন সঠিক হয়নি। তিনি বলেন, এক জন বিচারককে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হলো। এর পরই আরেক জন বিচারককে ঐ পদে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়াও উচিত হয়নি। তিনি বলেন, যদি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না যায় এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা না থাকলে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে না।
প্রাক্তন জেলা জজ ইকতেদার আহমেদ বলেন, ‘সংবিধানে বলা আছে, বিচারকাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে বিচারকরা স্বাধীন। কোনো মামলায় জামিন দেওয়া না দেওয়া সম্পূর্ণরূপে এক জন বিচারকের এক্তিয়ার। যদি বিচারকের সিদ্ধান্তে কেউ সংক্ষুব্ধ হন তাহলে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু তা না করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং বিচারককে স্ট্যান্ড রিলিজের সিদ্ধান্ত অপ্রত্যাশিত। এটা বিচার বিভাগের জন্য অশনিসংকেত। ইতিপূর্বে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে কি না সেটা আমার জানা নাই।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পিরোজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল হক খান পান্না ইত্তেফাককে বলেন, ‘একই আদালত কর্তৃক জামিন নামঞ্জুরের পর আবার জামিন মঞ্জুরের বহু নজির রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়া জেলা ও দায়রা জজের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ আইন মন্ত্রণালয়ে এফিডেভিট আকারে দাখিল করেছি। উনি পিরোজপুর ত্যাগ না করা পর্যন্ত কোনো আদালতে বিচারকাজে অংশ নেবেন না আইনজীবীরা।’
প্রসঙ্গত, দুর্নীতির তিন মামলায় মঙ্গলবার পিরোজপুরের জেলা ও দায়রা জজ এ কে এম এ আউয়াল ও তার স্ত্রী লায়লা পারভীনের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর পরই আউয়ালের সমর্থকরা এ ঘটনায় রাস্তায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। আইনজীবীরা আদালত বর্জন করে। এর পর পরই স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয় ঐ বিচারককে। জেলা ও দায়রা জজের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পান যুগ্ম জেলা জজ নাহিদ নাসরিন। বিকালে ঐ আদালতে তাদের জামিন মঞ্জুর করা হয়। এ ঘটনায় বিচার অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
সরকার চাইলে জামিন হয় :ব্যারিস্টার খোকন
সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার এম মাহবুবউদ্দিন খোকন এ প্রসঙ্গে বলেন, এ পরিস্থিতিতে দেশবাসী মনে করছে সরকার চাইলে জামিন হতে পারে, না চাইলে জামিন বাতিল হবে। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনা স্বাধীন বিচার বিভাগের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপের শামিল। ঐ জামিন কেলেঙ্কারি দেশের সাধারণ জনগণের বিচার বিভাগের ওপর আস্থা নষ্ট করেছে। এতে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
