কমবে আগাম বন্যাজনিত ক্ষতির আশঙ্কা
শ্যামলেন্দু পাল, নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনায় ২০ হাওরে ছোটোবড়ো ১১৯ বাঁধের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পথে। পিআইসি কমিটিগুলো গঠনে দেরি হলেও বাঁধগুলোর নির্মাণকাজ প্রায় যথাসময়ে শেষ হচ্ছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডসূত্রে জানা গেছে। ফলে আগাম বন্যাজনিত ক্ষতির আশঙ্কা কমে যাবে।
নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান বলেন, নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলায় চারটি, খালিয়াজুরীতে ছয়টি, মদনে চারটি, আটপাড়ায় একটি, ধর্মপাশায় একটি, কলমাকান্দায় একটি এবং বারহাট্টায় তিনটি হাওরের ১১৯টি ছোটোবড়ো বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। ১৫ দিনের মধ্যেই সব বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ হবে।
মদন এবং খালিয়াজুরীর কয়েকটি হাওর এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঁধগুলোর নির্মাণকাজ কোনো কোনোটার ৯৫ ভাগ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ এর মধ্যেই শেষ হবে বলে পিআইসি কমিটির সদস্যরা জানান।
নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম বলেন, নতুন বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি পুরোনো বাঁধগুলোও মেরামত করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন থেকে বাঁধ নির্মাণে মনিটরিংও করা হয়েছে। বেশ কয়েকবার হাওর এলাকা পরিদর্শন করেছি। এদিকে নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, হাওরে বাঁধ নির্মাণের ফলে আগাম বন্যার কারণে ফসলের ক্ষতি কমে যাবে। অন্যদিকে আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবার বোরোর বাম্পার ফলন হবে। লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ১ হাজার হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত বোরোর আবাদ হয়েছে।
নেত্রকোনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা জেলার পাঁচটি হাওর উপজেলাসহ ১০টি উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩০০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬০০ হেক্টর। চাল হিসেবে উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ৭ লাখ টন।
খালিয়াজুরীর কৃষক মহসিন মিয়া বলেন, প্রথমদিকে কমিটি গঠনে বিলম্ব হলেও পরে তা দ্রুত গঠন করে বাঁধ নির্মাণের কাজে হাত দেওয়া হয়। নেত্রকোনা জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আনিসুর রহমান বলেন, প্রতিকূল অবস্থার সৃষ্টি না হলে বোরো আবাদ ভালো হবে।
