কাপাসিয়ায় শীতলক্ষ্যার চরে স্ট্রবেরি চাষে সাফল্য

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২০, ০০:২৭

কাপাসিয়া (গাজীপুর) সংবাদদাতা

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বুক চিরে বহমান শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে জেগে ওঠা চরে স্ট্রবেরি চাষে সফলতা এসেছে। শীতপ্রধান দেশের ফল হিসেবে স্ট্রবেরির প্রচলন থাকলেও প্রান্তিক কৃষকের কল্যাণে স্ট্রবেরি চাষ এখন এদেশে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। দাম ও ফলন ভালো পাওয়ায় স্থানীয় কৃষকেরা স্ট্রবেরি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলাধীন সিংহশ্রী ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী একটি গ্রাম কুড়িয়াদী। এই গ্রামের গুটিকয়েক কৃষক নদীর তীরে জেগে ওঠা চরে শীতকালীন ফসলের চাষ করলেও অধিকাংশ জমিই পতিত পড়ে ছিল। কৃষিকাজে ভিন্নতা আনতে চলতি মৌসুমে পাশের শ্রীপুর উপজেলার ফুল চাষি দেলোয়ারের পরামর্শে কুড়িয়াদী গ্রামের কয়েক জন কৃষক স্ট্রবেরির চাষ শুরু করেন। এদেরই একজন তোফায়েল আহমেদ বিদ্যুত্। স্ট্রবেরি চাষ করে তিনি এরই মধ্যে সফলতা পেয়েছেন।

বিদ্যুত্ সাংবাদিকদের জানান, বর্ষাশেষে, বিশেষত শীতকালে নদীর পানি নেমে যায়, তখন নদী তীরে জেগে ওঠা চরে জমে থাকা পলিমাটি খুব উর্বর হয়ে থাকে। সেখানে যে ফসলের চাষ করা হয় তাতেই মেলে সফলতা। তিনি দেলোয়ারের মালিকানাধীন মৌমিতা ফ্লাওয়ারস থেকে ৩০ টাকা করে ১ হাজার স্ট্রবেরির চারা ক্রয় করেন। কয়েক মাস পরিচর্যা করার পর এখন ফলন পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আরো জানান, প্রতি কেজি স্ট্রবেরি তিনি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। এ পর্যন্ত তিনি দেড় লাখ টাকার স্ট্রবেরি বিক্রি করেছেন।

বিদ্যুতের পাশাপাশি নদীর চরে স্ট্রবেরির চাষ করেছেন একই এলাকার আব্দুর রাজ্জাক প্রধান কাজি। তিনি রোপণ করেছেন ৭ হাজার স্ট্রবেরির চারা। এছাড়াও হুমায়ুন কবির নামের এক যুবক রোপণ করেছেন ১৩ হাজার স্ট্রবেরির চারা।

স্ট্রবেরি হলো এক ধরনের ফ্র্যাগারিয়া (Fragaria) জাতীয় উদ্ভিদ। নয়ন জুড়ানো রং, গন্ধ ও স্বাদে আকর্ষণীয় ফল এই স্ট্রবেরি। এই ফলের রস আইসক্রিম, জ্যাম, মিল্ক শেক এবং আরো অনেক খাবারে ব্যাপকভাবে ব্যবহূত হয়। শিল্পায়িত খাদ্য তৈরিতে স্ট্রবেরির সুগন্ধি ব্যবহূত হয়। ১৭৪০ খ্রিষ্টাব্দে ফ্রান্সের ব্রিটানি অঞ্চলে সর্বপ্রথম স্ট্রবেরির চাষ করা হয়। এটি পরবর্তী সময়ে চিলি, আর্জেন্টিনা এবং কালক্রমে অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বাংলাদেশের যেসব এলাকায় শীত বেশি পড়ে ও বেশি দিন থাকে সেসব এলাকায় বারি স্ট্রবেরি-১ নামে একটি উচ্চ ফলনশীল জাতের স্ট্রবেরি চাষ করা হচ্ছে। স্ট্রবেরির পাকা ফল টকটকে লাল রঙের হয়। এ ফলটি সুগন্ধিযুক্ত, টক মিষ্টি স্বাদের। জমির পাশাপাশি টব, বাড়ির ছাদ বা বারান্দাতেও এই ফল চাষ করা সম্ভব। একজন বেকার নারী বা পুরুষ নিজের জমিতে অথবা বর্গা নেওয়া জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করে ব্যবসা শুরু করতে পারেন, ঘোচাতে পারেন বেকারত্বের গ্লানি। গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাহবুব আলম সাংবাদিকদের জানান, স্ট্রবেরিতে উচ্চমাত্রার পুষ্টিমান বিদ্যমান। এই ফল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি রোগমুক্তিতেও সহায়তা করে। স্ট্রবেরি চাষ লাভজনক বলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এটি অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।