স্পোর্টস রিপোর্টার
বসুন্ধরা কিংসের হার আবাহনীর সামনে এককভাবে শীর্ষে উঠে আসার বড়ো একটা সুযোগই এনে দিয়েছিল। কিন্তু চট্টগ্রাম আবাহনীর কাছে ২-০ ব্যবধানের হার হজম করে সে সুযোগ হারিয়েছে কোচ মারিও লেমসের শিষ্যরা। বরং এই জয়ে শীর্ষ চারে উঠে এল কোচ মারুফুল হকের চট্টগ্রাম আবাহনী।
অথচ গতকাল শনিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধটায় একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল আবাহনীরই। প্রতিপক্ষ গোলমুখে অবশ্য প্রথম শটটা নিয়েছিল সফরকারী চট্টগ্রাম আবাহনীই। বিরতির পাঁচ মিনিট আগে ৪০ গজ দূর থেকে পুলাতভ শুকুরের দূরপাল্লার ফ্রি কিক ঠেকিয়ে আবাহনীকে সে যাত্রায় রক্ষা করেন গোলরক্ষক শহীদুল সোহেল।
এর আগে চতুর্থ মিনিটে কেরভেন্স বেলফোটের্র ক্রস থেকে আবাহনী অধিনায়ক নাবিব নেওয়াজের হেড বেরিয়ে যায় গোলমুখের একটু বাইরে দিয়ে। ১৬ আর ১৭ রায়হানের লম্বা থ্রো আর মামুনুলের কর্নার বেলফোর্ট আর মেইলসনের হেডও লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে বিরতির আগে গোলবঞ্চিত থাকে আবাহনী? অন্যদিকে চট্টগ্রাম আবাহনীও প্রথমার্ধে বলার মতো আক্রমণ করেছিল সে একটাই। ফলে গোলহীন থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে দুই দল।
সফরকারীরা ম্যাচের অচলায়তন ভাঙে ৬২ মিনিটে। ডানপ্রান্ত থেকে রাকিবের কাটব্যাক খুঁজে পায় বক্সের একটু বাইরে থাকা চার্লস দিদিয়েরকে। আইভরি কোস্টের এই মিডফিল্ডারের বাঁ-পায়ের দুর্দান্ত বাঁকানো শট আবাহনীর গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে জড়ায় জালে।
ম্যাচে ফিরতে মরিয়া আবাহনী সেরা সুযোগটা পায় ৮৮ মিনিটে। সোহেল রানার ক্রসে নাবিবের সাইডভলি ঠেকিয়ে চট্টগ্রাম আবাহনীর অগ্রগামিতা ধরে রাখেন গোলরক্ষক মোহাম্মদ নাইম। যোগ করা সময়ে নাসিরুল ইসলামের গোল ম্যাচের সব অনিশ্চয়তা উড়িয়ে দেয়। প্রতি-আক্রমণে অধিনায়ক দিদিয়েরের থ্রু থেকে ডান প্রান্তে বক্সের কোণায় থাকা এই রাইটব্যাক বল আয়ত্তে নিয়ে আগুনে শট নেন আবাহনী গোলমুখে। তাতে মৌসুমের প্রথম হার নিশ্চিত হয় আবাহনীর।
তবে এই হারের পরও শীর্ষস্থান নিয়ে কোনো সমস্যায় পড়েনি আবাহনী, শুধু এককভাবে শীর্ষে ওঠা হলো না এই যা! তবে ম্যাচে জয় নিয়ে শীর্ষ চারে উঠে এসেছে চট্টগ্রাম আবাহনী। ম্যাচের ফল চলতি মৌসুমে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ তালিকায় অবশ্য এনেছে দারুণ পরিবর্তন? শীর্ষ চারের চারটি দল, আবাহনী, চট্টগ্রাম আবাহনী, সাইফ স্পোর্টিং আর বসুন্ধরা কিংস; সবারই অর্জন ১০ পয়েন্ট করে। ৯ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচে থাকা মোহামেডানও ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে তাদের।
