জাতীয় পার্টির (জাপা) চিফ প্যাট্রন রওশন এরশাদের ছেলে সাদ এরশাদ এমপি হঠাত্ দলের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে শুরু করেছেন। জাপার চেয়ারম্যান জি এম কাদের যেসব নেতাকে দলের প্রেসিডিয়ামসহ বিভিন্ন পদ থেকে বাদ দিয়েছেন, তাদের কয়েক জনকে নিয়েই গতকাল শনিবার সভা করলেন সাদ। বুধবার প্রথমবারের মতো রাজধানীর কাকরাইলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও যান তিনি। চাচা জি এম কাদের যাদের দলীয় পদে রাখেননি, তাদের নিয়ে ভাতিজা সাদের বৈঠক এবং আকস্মিকভাবে তার দলীয় কার্যালয়ে যাওয়া নিয়ে ফিসফাস চলছে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে।
জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম সেন্টুর মোহাম্মদপুরের কার্যালয়ে গতকাল যান সাদ এরশাদ। সেন্টু ছাড়াও সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম থেকে বাদ পড়া জাপার প্রবীণ নেতা অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান। প্রেসিডিয়াম থেকে বাদ পড়া রংপুরের নেতা ফখর উজ্জামান জাহাঙ্গীর ও কাজী মামুনুর রশীদ, বর্তমানে কোনো পদে না থাকা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু, সাবেক দুই সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা ও ইয়াহইয়া চৌধুরীও ছিলেন এই সভায়।
গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর জাপার নবম কাউন্সিলের পর গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে এই নেতাদের বাদ দেন জি এম কাদের। নতুন কমিটিতে ভাতিজা সাদকে ৯ নম্বর যুগ্ম-মহাসচিব করেছেন চাচা কাদের আর ২ নম্বর যুগ্ম-মহাসচিব করা হয়েছে টঙ্গীর আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ফেরারি আসামি দিপুকে। তবে জি এম কাদের নতুন কমিটি গঠন করার কয়েক দিন পরেই এক ‘সাংগঠনিক আদেশে’ ছেলে সাদকে দলের কো-চেয়ারম্যান এবং অধ্যাপক দেলোয়ার, এম এ সাত্তার, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু, ফখর উজ্জামান জাহাঙ্গীর, কাজী মামুনসহ কয়েক নেতাকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে ঘোষণা দেন রওশন। সেই ঘোষণাকে ‘রওশনের এখতিয়ারবহির্ভূত’ বলে মন্তব্য করেন জি এম কাদের।
গতকালের বৈঠকে সাদ এরশাদ বলেছেন, দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে হবে। কাউকেই বাদ দেওয়া যাবে না, কাউকে অসম্মান করা যাবে না। যাদের বিভিন্ন পদ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সবাইকে যার যার ন্যায্য সম্মান ফিরিয়ে দেওয়া হবে। সভায় দলের প্রবীণ নেতা অধ্যাপক দেলোয়ার বলেন, এরশাদ ও জি এম কাদের দুজনই অরাজনৈতিক। তবে এরশাদের পাশে ছিলেন দেশের ঝানু রাজনীতিকেরা আর বর্তমানে জি এম কাদেরের পাশে বসেন বিতর্কিতরা—এই হচ্ছে পার্থক্য। ২৮ ডিসেম্বরের কাউন্সিলকে অবৈধ দাবি করে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কাউন্সিলের আগে দলের গঠনতন্ত্র প্রেসিডিয়াম সভায় অনুমোদন করানো হয়নি, প্রেসিডিয়াম সদস্যদের খসড়া গঠনতন্ত্রের কপিও সরবরাহ করা হয়নি। লুকোচুরি করে নিজেদের মনের মতো গঠনতন্ত্র বানিয়ে নেওয়া হয়েছে।
