বড়দিনে চলে গেলেন ‘কলকাতার যিশু’র স্রষ্টা পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। বেশ কিছুদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুখে ভুগছিলেন তিনি। কয়েকদিন আগে শরীর আরও খারাপ হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার সকালে হঠাত্ করে তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়। সেই ধাক্কা আর কাটিয়ে উঠতে পারেননি নীরেন্দ্রনাথ। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ দক্ষিণ কলকাতার মুকুন্দপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর জীবনাবসান হয়। এদিন সন্ধ্যাায় নিমতলা শ্মশানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। তার আগে রবীন্দ্রসদনে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান বহু বিশিষ্টজন ও গুণগ্রাহী।
তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, ‘কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর প্রয়াণে আমি শোকাহত। এটা আমাদের সকলের জন্য একটি বড় ক্ষতি। বাংলা সাহিত্যে তার অসামান্য অবদান তাকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে। ২০১৭ সালে ওনাকে আমরা বঙ্গবিভূষণ সম্মানে ভূষিত করেছিলাম। ওনার পরিবারকে আমার সমবেদনা জানাই।’
অবিভক্ত ভারতের ফরিদপুরে ১৯২৪ সালের ১৯ অক্টোবর নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর জন্ম। তিনি ছোটবেলা থেকেই ছড়া লিখতেন। ১৯৫১ সালে আনন্দবাজার পত্রিকায় যোগদান করেন। একাধারে তিনি ছিলেন কবি, ছড়াকার, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, গদ্যকার, গোয়েন্দা-গল্পকার, শিশুসাহিত্যিক, ভ্রমণ-কাহিনীর লেখক, সম্পাদক এবং বানান-বিশেষজ্ঞ। ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কবিতার বই ‘নীল নির্জন’। এরপর একে একে ‘অন্ধকার বারান্দা’, ‘নিরক্ত করবী’, ‘নক্ষত্র জয়ের জন্য’, ‘আজ সকালে’র মত অজস্র কবিতার বই। ‘উলঙ্গ রাজা’ কাব্যগ্রন্থের জন্য ১৯৭৪ সালে সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার পান তিনি। এছাড়াও উল্টোরথ, তারাশঙ্কর স্মৃতি, আনন্দ শিরোমণি, আনন্দ পুরস্কার পান। ২০০৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়া হয় তাঁকে। তাঁর লেখা কবিতা ‘অমলকান্তি রোদ্দুর হতে চেয়েছিল...’ বা ‘রাজা তোর কাপড় কোথায়...’ রীতিমতো প্রবাদে পরিণত হয়েছে।
