করোনা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে কঠোরতা প্রয়োজন

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২০, ২১:৫২

করোনা ভাইরাস অবশেষে শত দেশের মাটি স্পর্শ করিল। শত দেশের মধ্যে ঢুকিয়া পড়িল বাংলাদেশের নামও। ইতালিফেরত তিন জনের শরীরে এই ভাইরাস পাওয়া গিয়াছে। বাংলাদেশের আগেই প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান ও আফগানিস্তানে করোনা ভাইরাস ঢুকিয়া পড়িয়াছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আশঙ্কা করিতেছে, জনবহুল এই দেশে সংক্রমণ ছড়াইয়া পড়িলে পরিস্থিতি ঘোলাটে হইতে পারে। যদিও সরকার প্রতিনিয়ত আশ্বস্ত করিতেছে করোনা লইয়া অকারণে আতঙ্কিত না হইতে। তবে বাস্তবতা হইল, চীনসহ যেই সকল দেশে করোনার সংক্রমণ দেখা দিয়াছে, সেই সকল দেশে রহিয়াছে লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশি। তাহারা প্রতিনিয়ত দেশে আসা-যাওয়া করিয়া থাকেন। যদিও প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিদেশি যাহারা বাংলাদেশে আসিতেছেন, তাহাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হইতেছে সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দরে। তবে সকল ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যপরীক্ষা যে যথাযথভাবে হইতেছে—তাহা লইয়া সংশয় রহিয়াছে। চীনের বাহিরে ইতালি ও ইরানে করোনা ভয়াবহ রূপ ধারণ করিয়াছে। অবস্থা ভালো নয় ফ্রান্স ও জার্মানিরও। ইতোমধ্যেই আমেরিকায় করোনায় ১৯ জনের মৃত্যু হইয়াছে। নিউ ইয়র্ক শহরে জারি হইয়াছে স্বাস্থ্যসতর্কতা। সান ফ্রান্সিসকোর উপকূলে দাঁড় করাইয়া রাখা হইয়াছে গ্রান্ড প্রিন্সেস জাহাজকে, যাহার প্রায় ২ হাজার ৪০০ যাত্রীর মধ্যে ২১ জন করোনায় আক্রান্ত।

এই সকল পরিসংখ্যান জানাইতেছে যে, চীনের বাহিরে করোনা বাকি বিশ্বে ১৭ গুণ বেশি দ্রুততার সহিত ছড়াইতেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বড়ো মাথাব্যথার কারণ এইখানেই। কারণ, এই ভাইরাস এতটাই ছোঁয়াচে যে, যাহার শরীরে প্রবেশ করে, তাহার শরীরে সর্বোচ্চ ১৪ দিনের মধ্যে রোগটি প্রকাশ হইবার আগেই ইহা অন্যদের মধ্যে চুপিসারে ছড়াইয়া পড়িতে পারে। করমর্দন, হাঁচি, কাশির মাধ্যমে অন্যের শরীরে ছড়াইতে দুর্বার ক্ষমতা রাখে এই ভাইরাস। মুশকিল হইল, আমরা নিজের অজান্তে কোথায় না হাত দিয়া স্পর্শ করি? কমন বাথরুমের দরজার হ্যান্ডেল হইতে শুরু করিয়া গণপরিবহনের সামনের সিটের অগ্রভাগ, দাঁড়াইয়া থাকিবার হ্যান্ডেল—প্রতিটি জায়গাতেই প্রতিমুহূর্তে বহু মানুষের স্পর্শ ঘটে। আর তাহাতেই অপ্রত্যাশিতভাবে দ্রুততার সহিত ছড়াইয়া পড়িতে পারে করোনা ভাইরাস। চীন এই কারণে করোনা প্রতিহত করিতে উহান প্রদেশের স্কুল-কলেজ, অফিস, আদালত—সকল কিছু বন্ধ করিয়া দিয়াছে। সেইখানে পরিবারপিছু মাত্র একজনকে কমপ্লেক্সের বাহিরে যাইতে দেওয়া হয়, কমপ্লেক্সের গেট দিয়া প্রবেশ ও বাহিরের সময় স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক। রাস্তা ও গাড়িগুলিকে রোজ অ্যালকোহল দিয়া ভালোভাবে স্যানিটাইজ বা জীবাণুমুক্ত করিতেছেন সরকারি কর্মীরা। স্বাস্থ্যবিধির নিয়ম ভাঙিলেই কোয়ারেন্টাইনে পাঠাইয়া দেওয়া হইতেছে। অর্থাত্ চীন যেইভাবে করোনা ভাইরাসের মোকাবিলা করিতেছে, তাহা বিশ্বের অন্যত্র সেইভাবে করা হইতেছে না বিধায় বাকি বিশ্বে ১৭ গুণ দ্রুতগতিতে ছড়াইতেছে করোনা। সুতরাং করোনা মোকাবিলায় হাতের কনুই অবধি এবং বিশেষত আঙুলের ডগা বারংবার স্যানিটাইজ করা এবং হাত দিয়া নাক, মুখ ও চোখ স্পর্শ না করিবার ব্যাপারে সদাসতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। করমর্দন হইতে বিরত থাকিতেই হইবে। প্রতিটি অফিস, আদালত জনবহুল জায়গায় এই সকল বিধি বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। মনে রাখিতে হইবে—স্পর্শে মিলায় করোনা, দূরত্বে বহুদূর।