উন্নত দেশ গড়তে দরকার নারী-পুরুষের সমতা

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২০, ২২:০৫

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল বিভিন্ন সংগঠন যথাযোগ্য মর্যাদায় নানা কর্মসূচি পালন করেছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ :আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সুফিয়া কামাল ভবন মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করে। ‘প্রজন্ম সমতায় এগিয়ে চলি, নারীর অধিকার অর্জন করি’ স্লোগান সামনে রেখে আলোচনা সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেহানা ইউনূস। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীর উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ১৯৭১ সালে গণতান্ত্রিক, মানবিক ও নারী-পুরুষের সমতাপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু এখনো সব ক্ষেত্রে সমতা প্রতিষ্ঠার লড়াই নারীকে করতে হচ্ছে। উন্নত দেশ গড়তে দরকার নারী-পুরুষের সমতা। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি মাহতাবুন নেসা। তিনি আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপের জন্য ৮ মার্চের পর নানাবিধ নীতিমালা গ্রহণ করা হয়েছে। যেমন—সিডও সনদ, বেইজিং ঘোষণা ও জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট ঘোষণা। বাংলাদেশের সংবিধান এই নীতিমালার সঙ্গে অত্যন্ত সংগতিপূর্ণ। এরই ফলে নানা ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম, সাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম, আন্তর্জাতিক সম্পাদক রেখা সাহা, তরুণী সংগঠক ও সদস্য খালেদা ইয়াসমিন কণা।

জাতীয় প্রেসক্লাব :বঙ্গবন্ধুর আর্দশে প্রণীত সংবিধানেই নারীর উন্নয়ন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। তারা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ভিত্তিতে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হয়েছে। এই সংবিধানেই নারী ও পুরুষের সমানাধিকার ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার রূপরেখা রয়েছে। তাই নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সংবিধানের মূলনীতি বাস্তবায়ন জরুরি। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘নারী উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেসক্লাবের পক্ষে সম্মাননা প্রদান করা হয় কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনকে। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন। ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাহিত্যিক নাজমুন নেসা পিয়ারী, নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু, একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি হেলাল হাফিজ, প্রেসক্লাবের সহসভাপতি আজিজুল ইসলাম ভুঁইয়া, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান, ইমপালস হাসপাতালের পরিচালক জহির আল আমিন প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য শাহনাজ বেগম। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাক ও পাক্ষিক অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেন এবং দৈনিক মানব জমিনের প্রধান সম্পাদক মাহবুবা চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, পুরুষের সহযোগিতার মধ্য দিয়ে নারী-পুরুষের সমতা ও অগ্রযাত্রা পূর্ণতা পায়। তার মতে, বঙ্গবন্ধু নারীর উন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন; যা সংবিধানে প্রতিফলিত হয়েছে। যার একটি হচ্ছে সংসদেও নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন। পিছিয়ে পড়া নারী ও শিশুদের উন্নয়নেও সংবিধানে বঙ্গবন্ধু সব ব্যবস্থা রেখে গেছেন। তাই সংবিধান বাস্তবায়ন করা জরুরি।

এদিকে ‘প্রজন্ম হোক সমতার, সকল নারীর অধিকার’ মূলমন্ত্রে দিবসটি উদ্যাপন করেছে ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড। সেনা পরিবার কল্যাণ সমিতির প্রধান পৃষ্ঠপোষক বেগম দিলশাদ নাহার আজিজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিবসটির গুরুত্ব সম্পর্কে বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফারজানা আহমেদ, ফারুক মঈন উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, হুমায়রা আজম, এএমডি ওসি আরও এবং উপস্থিত ছিলেন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে শ্রেষ্ঠ আত্মনির্ভরশীল নারী সম্মাননা পুরস্কার ২০২০ প্রদান করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। ৯ জন সফল নারীর হাতে সম্মাননা পুরস্কার তুলে দেন এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, স্বাগত বক্তব্য রাখেন এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও সভাপতি এলজিইডি জেন্ডার ও উন্নয়ন ফোরাম মো. আহসান হাবিব।