ডা. সঞ্চিতা বর্মন
বর্তমানে নন-কমিউনিকেবল ডিজিসের মধ্যে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার হার সবচেয়ে বেশি। আমাদের দেশে প্রতি ১০ জন নারীর মধ্যে একজন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন। ডায়াবেটিস রোগীদের পাশাপাশি নারীরা বিশেষ ধরনের গর্ভকালীন ডায়াবেটিসেও আক্রান্ত হন, যার চিকিত্সা পদ্ধতি জটিল ও ভিন্ন। রোগ নির্ণয় ও চিকিত্সা পাওয়ার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে ডায়াবেটিসজনিত মৃত্যুহার পুরুষদের তুলনায় নারীদের বেশি। অল্প বয়সেই নারীরা গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন, যার হার শতকরা ৮ থেকে ১৪ শতাংশ। তাই গর্ভধারণের ৮ সপ্তাহ পর ডায়াবেটিস পরীক্ষা করতে হবে।
সাধারণত সন্তান জন্মের পর গর্ভকালীন ডায়াবেটিস ভালো হয়ে যায়। কারো ক্ষেত্রে এই গর্ভকালীন ডায়াবেটিস ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকির হার বাড়িয়ে দেয়। বন্ধ্যাত্ব, গর্ভপাত, গর্ভে সন্তানের মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটলে ডায়াবেটিসের কথা মাথায় রাখা উচিত। যারা আগে থেকে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তাদের সন্তান নেওয়ার আগে চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী নিতে হবে। ডায়াবেটিসের কারণে বারবার প্রস্রাবে সংক্রমণ, যোনিপথে ছত্রাকের সংক্রমণ ইত্যাদি সমস্যা বেশি থাকে। এছাড়া দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস পারিবারিক ইতিহাস থাকলে অন্যান্য শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। হূদরোগ, স্নায়ুর সমস্যা, কিডনি রোগ, চর্মরোগ ইত্যাদি তুলনামূলক অন্যদের চেয়ে বেশি। তাই নিয়মিত ব্যায়াম, ডায়েট, ওষুধ ও নিয়মমাফিক জীবনযাত্রা ডায়াবেটিসজনিত জটিলতাকে প্রতিরোধ করতে পারে।
লেখক : ত্বক, লেজার অ্যান্ড এসথেটিক বিশেষজ্ঞ
