ভূমি অধিগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা
স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিকে হাটের জমি হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল এলাকায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক চার লেন উন্নীতকরণ প্রকল্প অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বগুড়া জেলা প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে নিঃস্ব হওয়ার আশঙ্কায় বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার জামালপুর মৌজার নয়মাইল বন্দরের ব্যবসায়ী, জমি ও স্থাপনা মালিকরা আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। আদালতও ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল হয়ে রংপুর পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের জন্য বর্তমানে বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের দুই পাশে জমি অধিগ্রহণ এবং স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ চলছে। কিন্তু বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল হাট এলাকায় এই কাজ থমকে আছে। এখানে মহাসড়কের কাজ রয়েছে ৩০০ মিটার। এই ৩০০ মিটারের কাজই বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জামালপুর মৌজার কয়েকটি দাগের ৬১ শতাংশ জমির মালিক ঐ এলাকার ৪০ ব্যক্তি। কেউ পৈতৃক সূত্রে, কেউ ক্রয় সূত্রে মালিক হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত্ ভোগদখল করছেন। মালিকদের অনুকূলে খাজনা-খারিজ, বর্তমান মাঠ রেকর্ড, এম আর আর, সি এস রেকর্ড রয়েছে। এসব সম্পত্তিতে একতলা থেকে পাঁচতলা ভবন, সেমিপাকা, কাঁচাঘর, একচালা বা দোচালা বিশিষ্ট দোকান, গোডাউন নির্মাণ করে ব্যবসাবাণিজ্য চলে আসছে। সম্প্রতি ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগে নেওয়া হলে এই জমিগুলো এল এ কেস নং ০৭/সাসেক/২০১৮ এর আওতাভুক্ত হয়।
ভুক্তভোগী আব্দুল হাকিম জানিয়েছেন, এল এ কেসভুক্ত জমিতে তার পাঁচতলা ভবন রয়েছে। যার নিচতলায় কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে এবং দুই থেকে পাঁচতলা পর্যন্ত আবাসিক কাজে ব্যবহার হচ্ছে। ঐ সম্পত্তির মালিক হিসেবে তার নামেই ৪ ধারা নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ঐ জমির মালিক হিসেবে তার এবং নয়মাইল হাটের নাম উল্লেখ করে ৭ ধারা নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সবশেষে ৮ ধারা নোটিশে শুধুমাত্র নয়মাইল হাটের নামে নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং উক্ত জমিতে কোনো স্থাপনা নাই মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে। একই রকমের অভিযোগ করেছেন বিবদমান জমিতে থাকা তিনতলা ভবনের মালিক আবু তাহের এবং দুইতলা ভবনের মালিক মোয়াজ্জেম হোসেন নামের দুই ব্যক্তিও।
নয়মাইল বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল বাশার জানিয়েছেন, মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তিকে নয়মাইল হাটের নামে চালান এবং উক্ত সম্পত্তিতে বহুতল ভবন, আধাপাকা, সেমিপাকা, কাঁচা এবং একচালা দোচালা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলেও কোনো স্থাপনা নাই মর্মে উল্লেখ করে নোটিশ জারি করাটা একটি হঠকারী সিদ্ধান্ত। প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ভুক্তভোগীরা কয়েকদিন আগে নয়মাইল বন্দরে সংবাদ সম্মেলন এবং মানববন্ধন করেছে। জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত আবেদনও করা হয়েছে। তারপরও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এরপর আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ঐ মামলায় জমির মালিকদের পক্ষে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।
এ ব্যাপারে বগুড়া জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ জানান, নয়মাইল হাট সংলগ্ন এলাকার জমি অনেকে তাদের পৈতৃক বা ক্রয় সূত্রে মালিকানা দাবি করে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য বলে দাবি করেছেন। বিষয়টি দেখার জন্য বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ (রাজস্ব) সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভূমি মালিকরা আইনের আশ্রয় নিয়েছেন, আদালত যে আদেশ দেবেন আমরা তা মেনে চলব। এজন্য ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের চার লেনের উন্নীতকরণ কাজের কোনো ক্ষতি হবে না।
