করোনা আতঙ্ক
স্পোর্টস রিপোর্টার
করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ভীত গোটা বিশ্ব। ১০০র বেশি দেশে আক্রান্ত হয়েছে মানুষ। গত রবিবার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত তিন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে বাংলাদেশেও। তারপরই জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ফ্লু-বাহিত এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে বাংলাদেশ সরকার। এরই মধ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর সবচেয়ে বড়ো অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ১৭ই মার্চ যেটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
সরকারি নির্দেশনার পর বিসিবিও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে গতকাল বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে প্রথম টি-২০ ম্যাচের টিকিট বিক্রি কমিয়ে দিয়েছে বিসিবি। গ্যালারিতে বেশি সংখ্যক দর্শক সমাগম হওয়াকে নিরুত্সাহিত করছে বিসিবি। ৫ হাজারের বেশি টিকিট ছাড়া হচ্ছে না। দর্শকসংখ্যা সীমিত রাখতেই এই উদ্যোগ।
সতর্কতা অবলম্বনেই টিকিট বিক্রি কমিয়েছে বিসিবি। একজন দর্শককে একটির বেশি টিকিট দেওয়া হচ্ছে না। গতকাল বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমরা মূলত সরকারি নির্দেশনাই অনুসরণ করছি। নির্দেশনায় বলা হয়েছে ভেন্যুতে দর্শক সমাগম সংরক্ষিত রাখতে। সেজন্যই আমরা ৫ হাজার টিকিট ছেড়েছি।’
আন্তর্জাতিক ম্যাচকে কেন্দ্র করে সাধারণত স্টেডিয়ামে বড়ো ধরনের জনসমাগম হয়। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণা ক্ষমতা প্রায় ২৫ হাজার। তবে গ্যালারিতে ধারণ ক্ষমতার পাঁচ ভাগের এক ভাগের বেশি দর্শক দেখতে চায় না বিসিবি। গতকাল বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেন, ‘আমরা ৪-৫ হাজার টিকিট ছাড়ছি যাতে করে লোক সমাগম কম হয়। যেহেতু এই রোগে সহজে আক্রান্ত হয় তাই বেশি ভিড় না করে ভিড়টাকে অল্পের মধ্যেই রাখতে চাইছি।’
গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে ম্যাচের আগে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে টিকিট বিক্রি কমানো হয়েছে। স্টেডিয়ামমুখী জনস্রোতও নেই। ম্যাচ শুরুর পর সাধারণ পূর্ব গ্যালারিতেই বলার মতো দর্শক ছিল। এর বাইরে বাকি গ্যালারিতে বেশিরভাগ চেয়ারই ফাঁকা ছিল। একই চিত্র হয়তো বহাল থাকবে আগামীকাল বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচেও।
এদিকে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে মুজিববর্ষের বিশেষ আয়োজন মুজিব ১০০ টি-২০ কাপ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। চলতি মাসে ২১ ও ২২ মার্চ মিরপুর স্টেডিয়ামে দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছে বিসিবি। তবে জানা গেছে, ম্যাচ দুটি আপাতত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত দ্রুতই আসতে পারে।
পুরো বিশ্বের মতো খেলার মাঠেও করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত সোমবার রাতে দর্শকহীন মাঠেই সিরি’আ লিগের জুভেন্টাস-ইন্টার মিলান ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরই মধ্যে স্থগিত হয়ে গেছে নেপালের এভারেস্ট প্রিমিয়ার লিগ। পাকিস্তানে পিএসএল অবশ্য অব্যাহত রয়েছে। তবে সেটি চরম ঝুঁকির মধ্যে। কারণ করাচিতেই বেশ কয়েকজনের আক্রান্ত হওয়ার খবর রয়েছে।
