করোনা ভাইরাস আতঙ্ক
স্পোর্টস রিপোর্টার
বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস আতঙ্কে ভুগছে কোটি কোটি মানুষ। ফুটবল দুনিয়াও করোনা ভাইরাসে আতঙ্কিত। ফিফা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ফুটবল এবং ২০২৩ এশিয়ান কাপ ফুটবলের বাছাই ম্যাচ স্থগিত করা হয়েছে। ২৬ মার্চ সিলেটে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান, ৩১ মার্চ দোহায় বাংলাদেশ-কাতার, ৪ জুন ঢাকায় বাংলাদেশ-ভারত এবং ৯ জুন ঢাকায় বাংলাদেশ-ওমান ম্যাচ ছিল। মার্চ এবং জুনেই এই ম্যাচগুলো স্থগিত করা হয়েছে।
ফিফার নির্দেশনা পেয়ে এএফসি সে কথা জানিয়ে দিয়েছে বাফুফেকে। এএফসির কাছ থেকে গতকাল চিঠি পেয়ে ২৬ মার্চ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশে আফগানিস্তান ম্যাচ স্থগিত করে বাফুফে। গতকাল বিকালে বাফুফে ভবনে ম্যাচ স্থগিতের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ। কোনো দেশ যদি খেলতে চায় তখন কি হবে ? গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত কাতারের সঙ্গে বাফুফের যোগাযোগ হয়নি। বাফুফে হতে অনেকবার যোগাযোগ করা হলেও সাড়া না পাওয়ার কথাটা জানিয়েছেন সোহাগ। কাতারে অনেক দেশই ঢুকতে পারছে না। বিমান যোগাযোগ বন্ধ রেখেছে কাতার। বাফুফে ধরে নিচ্ছে কাতার ৩১ মার্চের খেলাটা খেলবে না। না খেললেও কাতার একটা জবাব দেবে সেই অপেক্ষায় বাফুফে। সোহাগ বললেন, ‘কাতারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি। যোগাযোগ হয়নি। আশা করি হয়ে যাবে।’
এএফসির চিঠি পেয়ে বাফুফে তাদের মতো করে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে এএফসি বাফুফেকে জানিয়েছে কোনো দেশ চাইলে পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা করে ম্যাচ আয়োজন করতে পারে। সেই ক্ষেত্রে কোনো দেশ এককভাবে চাইলেই হবে না। দুই দেশের সম্মতিতে ম্যাচ হতে পারে। তবে এএফসি কিছু শর্ত দিয়েছে যা পূরণ করতে হবে। সেটি হচ্ছে খেলোয়াড়, কোচ, স্বাস্থ্য, দর্শকদের স্বাস্থ্যের কথা গভীরভাবে ভাবতে হবে। সোহাগ বললেন, ‘শুধু দুই দলের কোচ খেলোয়াড়, দর্শক হলেই হবে না। একটা ম্যাচ আয়োজন করতে ম্যাচ অফিসিয়াল প্রয়োজন হয়। রেফারি, সহকারী রেফারি, ম্যাচ কমিশনার আসেন বিদেশ হতে। তারা যদি না আসতে চায় তাহলে ম্যাচ আয়োজনও করা যাবে না। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও পুরো বিষয়টা ফিফা এএফসির কাছে প্রেরণ করতে হবে। সেখান থেকে অনুমোদন মিললে তবেই ম্যাচ আয়োজন করা যাবে।’ সোহাগ বললেন, ‘আমরা ম্যাচ আয়োজন করতে পারি দুই দেশকে আলোচনা করতে হবে। লিখিত সম্মতি ফিফা এএফসিকে জানাতে হবে। অনুমোদন নিতে হবে।’
বিশ্বকাপ বাছাই এবং এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচগুলো কবে সেটা পরে জানাবে ফিফা। তবে শোনা যাচ্ছে নভেম্বরে হতে পারে মার্চ এবং জুনের খেলাগুলো।
বাংলাদেশের বিপক্ষে আফগানিস্তান ম্যাচটা আরো বেশি ঝুঁকির। কারণ আফগানিস্তানের যেসব খেলোয়াড় আসার কথা তাদের বেশির ভাগই ইউরোপে ফুটবল খেলেন। বিশেষ করে ইতালী হতে আসবেন।
ছুটিতে যাবেন জেমি এবং অন্যরা
আগামী ৩১ মার্চ দোহায় বাংলাদেশ কাতারের ম্যাচটি স্থগিত প্রায় নিশ্চিত। দুই একদিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়ে গেলেই জাতীয় ফুটবল দলের ইংলিশ কোচ জেমি ডে এবং তার কোচিং ষ্টাফ নিজ নিজ বাড়ি চলে যাবেন। করোনো ভাইরাস আতংকে অনেক ধরেই তারা বাড়ি যাওয়ার বায়না ধরছিলেন। কাল আবু নাঈম সোগহাগ জানিয়েছেন জেমি এবং অন্যরা বেশ কিছুদিন ধরে ছুটির কথা বলছিলেন। কাতার ম্যাচের আলোচনা হয়ে গেলে আমরা জেমি এবং অন্য যারা আছেন সব বিদেশিকে ছুটি দিয়ে দেবো। তিনি বলেন বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা পরিবারের পাশে থাকতে চান। তা ছাড়া কেউ যদি আক্রান্ত অবস্থায় নিজ দেশে ফিরতে চান তখন হয়ত তাঁকে নিজ দেশে নাও ঢুকতে দিতে পারে।’
