বাজার থেকে হঠাত্ করেই যেন ‘উধাও’ হয়ে গেছে মাস্ক, হেক্সিসল, হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ জীবাণু রোধে ব্যবহার্য বিভিন্ন পণ্য। বিভিন্ন ওষুধের দোকান ও সুপারশপ ঘুরে এসব পণ্যের কোনো একটি পাওয়া গেলেও আরেকটি নেই। কেউ বলছেন পরে আসেন, তবে আসার আগে ফোন দিয়ে আসবেন। আবার যেসব দোকানে পাওয়া যাচ্ছে তা বিক্রি হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি দামে।
এখন পর্যন্ত দেশে করোনা ভাইরাসে তিন জন আক্রান্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়নি। কিন্তু করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক ভর করেছে মানুষের মনে। তারা ছুটছেন এসব পণ্য কিনতে। গত শনিবার দেশে করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পর এসব পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন অফিস, আদালতে ঢোকার সময়ও হেক্সিসল দিয়ে হাত জীবাণুমুক্ত করা ও শরীরের তাপমাত্রা মাপা অনেকটা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে জীবাণু রোধে ব্যবহার্য বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা বেড়েছে ব্যাপকভাবে। গতকাল পর্যন্ত চীনসহ ১০০ দেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
রাজধানীর তেঁজতুরি বাজারে জাকিয়া মেডিসিন ফার্মার এক বিক্রয় প্রতিনিধি বলেন, হঠাত্ করে এত চাহিদা বাড়লে আমরা কীভাবে দেব? আমাদের কাছে হেক্সিসল ছিল। শেষ হয়ে গেছে। যেসব কাস্টমার অর্ডার দিয়েছিলেন তাদের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিয়ে এসেছি। ফার্মগেট, বাংলামোটরসহ কয়েক জায়গায় ঘুরে না পেয়ে মাহমুদ নামে এক ব্যক্তি কাওরানবাজারে এসেছেন হেক্সিসল/ হ্যান্ড স্যানিটাইজার কিনতে। এ বাজারের আল বারাকা মেডিসিন স্টোরে জিগ্যেস করতেই জানানো হলো, নেই। যা ছিল গতকালই শেষ হয়ে গেছে। ক্রেতা আবার জিগ্যেস করলেন, মাস্ক আছে? হ্যান্ড গ্লাভস আছে? বিক্রেতা জানাল, মাস্ক নেই। হ্যান্ড গ্লাভস আছে। এক জোড়ার দাম পড়বে ৩০ টাকা। তবে এক প্যাকেট দেওয়া যাবে না। ক্রেতা হিসেব করে দেখলেন, এক প্যাকেটে থাকে ১০০টা। প্রতিটি ১৫ টাকা হিসেবে এক প্যাকেটের দাম পড়বে ১৫০০ টাকা। অথচ অন্য সময় এক প্যাকেট হ্যান্ড গ্লাভস দাম সাড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা।
ধানমন্ডির একটি ফার্মেসির বিক্রয়কর্মী জানান, করোনার আতঙ্কে রবিবার রাতেই তাদের কাছে থাকা সব মাস্ক, হ্যাক্সিসল, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিক্রি হয়ে গেছে। নতুন করে অর্ডার দেওয়া পণ্য এখনো কোম্পানি থেকে সরবরাহ করা হয়নি। রাজধানীর উত্তরার একটি বড়ো ওষুধের দোকানে গতকাল সকালে হেক্সিসল কিনতে এসেছেন একজন নারী। তাকে জানানো হলো পরে যোগাযোগ করতে। তিনি স্যাভলন কিনে বাসায় ফেরেন। এ ফার্মেসির এক বিক্রয় প্রতিনিধি জানান, ‘অনেকেই প্রয়োজনের বেশি কিনছেন। ফলে এ সংকট তৈরি হয়েছে।’ এদিকে সবচেয়ে বেশি দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে মাস্ক। কষ্ট করে খুঁজে পাওয়া গেলেও গুণতে হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি দাম। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগে সার্জিক্যাল মাস্ক প্রতিটি ২০ থেকে ৪০ টাকা বিক্রি হলেও এখন তা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে। আর একবার ব্যবহারযোগ্য মাস্ক আগে প্রতিটি দুই থেকে পাঁচ টাকা বিক্রি হতো। যা এখন ১৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। পল্টন এলাকায় ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ও বাসে মাস্ক বিক্রি করেন শরীফ। মাস্কের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে একবার ব্যবহারযোগ্য মাস্কের ৫০টির এক প্যাকেটের পাইকারি দাম ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা। আর তা পাইকারিতে কিনতে হচ্ছে ৫০০ টাকা। তাও পাওয়া যায় না।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান
এদিকে মাস্ক ও জীবাণুরোধে বিভিন্ন পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে গতকাল দুপুর থেকে মাঠে নেমেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পাঁচটি টিম। গতকাল অভিযানে গুলশানে আল নূরা ফার্মেসি ও সাফারি ফার্মেসি নামে দুটি ফার্মেসি সিলগালা ও ফার্মগেটে বেশ কয়েকটি ফার্মেসিকে অর্থদণ্ডসহ একটি ফার্মেসি সাময়িতভাবে বন্ধ করে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারের নেতৃত্বে পাঁচটি টিমের দায়িত্বে আছেন সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডল, মো. মাগফুর রহমান, মাহমুদা আক্তার ও রোজিনা আক্তার। অভিযান সম্পর্কে মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়া জানান, গুলশানে অতিরিক্ত দামে মাস্ক বিক্রির অপরাধে সেখানকার দুটি ফার্মেসি সিলগালা করে দেওয়া হয়। ফার্মেসিগুলো হচ্ছে—আল নূরা ফার্মেসি ও সাফারি ফার্মেসি।
