করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) সংকটে বিশ্ব জুড়ে শেয়ারবাজারে পতন থামছে না। সোমবার এটি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অবস্থা এমন যে সোমবার কিছু সময়ের জন্য ওয়াল স্ট্রীটের শেয়ার বাজারে লেনদেন বন্ধ রাখা হয়। শেয়ারবাজারের অস্থিরতাকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ‘অশনি সংকেত’ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে তেলের উত্পাদন আরো বাড়াতে সৌদি আরবের একতরফা সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর একদিনের মধ্যে তেলের দাম আর কখনো এতটা কমেনি। তেল নিয়ে সৌদি-রাশিয়া টানাপোড়েনে বিশ্ব বাজারে ধস নেমেছে। এই দাম ২৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিশ্ব পুঁজিবাজারে সোমবারকে ‘ব্ল্যাক মানডে’ বলে বর্ণনা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ারবাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই দাম পড়ে যায় প্রায় ৭ শতাংশ। এতবড়ো পতনের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সেখানে শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। এশিয়া এবং ইউরোপের শেয়ারবাজারেও দেখা গেছে একই পরিস্থিতি। অনেকেই বলেছেন, শেয়ারবাজারে যা ঘটছে তা রক্তগঙ্গা বয়ে যাওয়ার মতোই। ২০০৮ সালের মন্দার পরে বিশ্ব অর্থনীতিতে এরকম সংকট আর দেখা যায়নি। গতকাল অস্ট্রেলিয়া থেকে শুরু করে এশিয়া, ইউরোপ এবং আমেরিকার সব বড়ো বড়ো পুঁজিবাজারে সারাদিন ধরে একের পর এক ধস নেমেছে। দিনের শুরুতেই জাপানের নিক্কেই ২২৫-এর সূচক নেমে গেছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। বড়ো পতন ঘটেছে অস্ট্রেলিয়াতেও। এদিন দেশটির প্রধান সূচক কমেছে প্রায় ৬ শতাংশ। সোমবার লন্ডনের শেয়ারবাজারে প্রধান সূচক কমেছে ৮ দশমিক ৪ শতাংশ। এই সূচকের ইতিহাসে এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ পতন। এর আগে ১৯৮৭ সালে দুবার আর ২০০৮ সালে একবার এত বড়ো দরপতনের ঘটনা ঘটেছে। বিবিসির এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিশ্ব জুড়ে করোনা ভাইরাসের বিস্তৃতি যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে, তার বিরূপ প্রভাব পড়েছে অর্থনীতি আর ব্যবসা-বাণিজ্যে। তেলের চাহিদা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো তেলের দাম স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। ওপেক চাইছিল তেলের উত্পাদন কমিড়ে দাম ঠিক রাখতে। কিন্তু ওপেক এর বাইরে থাকায় রাশিয়া উত্পাদন কমাতে রাজি হয়নি। তখন বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো তেল উত্পাদক দেশ সৌদি আরব হঠাত্ তেল উত্তোলন বাড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিল। ফলে গতকাল বিশ্ববাজারে ৩০ শতাংশ দর কমে ব্যারেল প্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম ৩১ দশমিক ৫০ ডলারে নেমে যায়। একে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সৌদির ‘তেল যুদ্ধ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সৌদির লক্ষ্য রাশিয়ার তেল কোম্পানিগুলোকে সমস্যায় ফেলবে। কারণ রাশিয়ার তেলের উত্পাদন খরচ বেশি, অল্প দামে বেশি দিন তারা তেল বিক্রি করতে পারবে না। করোনা ভাইরাস আর বিশ্ববাজারে তেল নিয়ে নতুন উত্তেজনার ফলে শেয়ারবাজারে ভয়াবহ পতন ত্বরান্বিত করেছে। করোনা ভাইরাস বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার সূচনা করতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছিলেন, শেয়ারবাজারে অস্থিরতা তারই প্রতিফলন।
