অণুরূপকথা

এসতোনিয়ার রূপকথা দুই ঘোড়ার গল্প

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২০, ২১:৫৮

অনেক বছর আগে এক দেশে দুটি ঘোড়া ছিল। একটি জমিদারের ঘোড়া। অপরটির মালিক এক চাষি। দুই ঘোড়ার মধ্যে খুব বন্ধুত্ব ছিল। মালিকের কাজ না থাকলে দুই বন্ধু বসে গল্প করত।

একদিন জমিদারের ঘোড়া বলল, আমি হচ্ছি উঁচু জাতের ঘোড়া। আমার পিঠের জীন (আসন) অনেক দামি। আমাকে সব সময় আমার মালিক সুন্দর সুন্দর পোশাক পরিয়ে সাজিয়ে রাখেন। আর তোমার জীন ছেঁড়া কাপড়ের তৈরি। তোমার গায়ের পোশাকও নোংরা। তোমার গায়ে সব সময় কাদা লেগে থাকে। আমি তীরবেগে ছুটতে পারি। লোকে আমার দিকে মুগ্ধদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। তোমার হাড় জিরজিরে শরীর। লোকে তোমার দিকে তাকিয়ে দেখে না। এখন বল তো, আমাদের মধ্যে কে বেশি সুন্দর এবং শক্তিশালী?

চাষির ঘোড়া বলল, আমার মালিক গরিব। আমাকে ভালো পোশাক এবং ভালো খেতেও দিতে পারে না। তুমি অবশ্যই খুব শক্তিশালী এবং সুন্দর। তোমার সঙ্গে আমার তুলনা চলে না। জমিদারের ঘোড়া বলল, তুমি কখনো আমার মতো জোরে ছুটতে পারবে না। তুমি দৌড়ে একটি শামুককেও হার মানাতে পারবে না।

চাষির ঘোড়া বলল, শামুককে হয়তো হারাতে পারব না। তবে তোমাকে হারাতে পারব।

জমিদারের ঘোড়া রেগে গিয়ে বলল, বেশ পরীক্ষা হয়ে যাক। কে বেশিক্ষণ দৌড়াতে পারে?

জমিদারের ঘোড়া আর চাষির ঘোড়ার মধ্যে দৌড় প্রতিযোগিতা শুরু হলো। জমিদারের ঘোড়া অল্প সময়ে মাঠটা এক চক্কর ঘুরে এলো। সে হাঁপাতে লাগল। চাষির ঘোড়া অনেক পেছনে। সে জমিদারের ঘোড়াকে বলল, কী বন্ধু এত অল্পে ক্লান্ত হয়ে পড়লে?

জমিদারের ঘোড়া আবার ছুটতে শুরু করল। পাঁচ-ছয়বার চক্কর দেয়ার পর জমিদারের ঘোড়া একেবারে শক্তিহীন হয়ে পড়ল। সে উঠে দাঁড়াতেও পারে না।

চাষির ঘোড়া বলল, থামলে তো চলবে না। কথা ছিল কে বেশিক্ষণ দৌড়াতে পারে।

জমিদারের ঘোড়া বলল, আমি আর দৌড়াতে পারব না।

চাষির ঘোড়া একটুও ক্লান্ত হয়নি। তারই জয় হলো।

এরপর থেকে জমিদারের ঘোড়া আর কখনো চাষির ঘোড়াকে অবজ্ঞা করত না।

রূপান্তর : শাহ্জাহান কিবরিয়া