করোনা-শঙ্কা নিয়েই মাঠে ইউরোপিয়ান ফুটবল

প্রত্যাবর্তনের আশা লিভারপুল-পিএসজির

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২০, ২২:২১

বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস ইউরোপীয় ফুটবলেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। সিরি’আ স্থগিতই হয়ে গেছে অনির্দিষ্টকালের জন্য। চ্যাম্পিয়নস লিগের খেলা হবে ফাঁকা স্টেডিয়ামে। আজ বুধবার অনুষ্ঠেয় পিএসজি-বরুসিয়া ডর্টমুন্ড ম্যাচও হবে দর্শকবিহীন। তবে দর্শকদের ওপর তেমন কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও লিভারপুল-অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ম্যাচেও থাকবে কড়া নজরদারি।

মূলত ফরাসি লিগে স্ত্রাসবুর্গের বিপক্ষে পিএসজির ম্যাচটি স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর থেকেই গুঞ্জন ছিল চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির ফিরতি ম্যাচটি দর্শকহীন স্টেডিয়ামে হওয়ার। সোমবার রাতে আসে অনুমোদন। অথচ গত ৬ মার্চ জানানো হয়েছিল, জনসম্মুখেই অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি।

পিএসজি আগের লেগে বরুসিয়ার মাঠ থেকে ২-১ ব্যবধানে হেরে ফিরেছিল। নেইমারের গোলের আগে-পরে ২টি গোলই করেছিলেন বরুসিয়ার নতুন সাড়া জাগানো ফুটবলার আর্লিং হালান্ড। পরের পর্বে যেতে হলে আজ নেইমারদের জিততেই হবে। ২টি গোল হজম করলে আবার সমীকরণটা আরো কঠিন হয়ে পড়বে স্বাগতিকদের। সেক্ষেত্রে জয়ের ব্যবধানটা হতে হবে ২ গোলের। এছাড়া যে কোনো ফলাফল বরুসিয়াকে তুলে দেবে দ্বিতীয় রাউন্ডে। ঘরের মাঠে নিজেদের দর্শকদের ছাড়া প্যারিসের কাজটা কঠিনই হয়ে পড়ল বইকি!

প্রথম লেগে পাওয়া ‘অ্যাওয়ে গোল’ অবশ্য পিএসজিকে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। তবে এরপরও ফরাসি দলটি বরুসিয়াকে হারিয়ে পরের পর্বে যেতে ব্যর্থ হলে কোপটা পড়বে কোচ থমাস টুখেলের ওপর। ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমে চলছে এমন গুঞ্জন। শেষ দুই মৌসুমে তারকাখচিত এক দল নিয়েও চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর গণ্ডি পার হওয়ার ব্যর্থতাই হবে এর কারণ। তবে দলটির ক্রীড়া ব্যবস্থাপক লিওনার্দো কিছুটা চাপ সরিয়ে নিতে চাইলেন যেন। তিনি বলেন, ‘ব্যাপারটা জীবন-মৃত্যুর মতো গুরুতর নয়। আমরা পরের বছরও চেষ্টা করতে পারব। নেতিবাচকতা বন্ধ করতে হবে আমাদের। আমাদের দুর্দান্ত এক দল আছে, যার খেলোয়াড়েরাও দুর্দান্ত।’

তবে পিএসজিকে আশা দিচ্ছে নেইমারের ফর্ম। বরুসিয়ার মাঠে গোল করলেও সামগ্রিক পারফর্ম্যান্স ছিল হতাশার। কিন্তু এরপর থেকে বদলে গেছেন নেইমার, অভিমত কোচ টুখেলের। তিনি বলেন, ‘ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে ছন্দহীন ছিল সে। এরপর থেকে তার প্রতিক্রিয়া অসাধারণ, প্রত্যেকটা অনুশীলন সেশনেই। সে পার্থক্য গড়ে দিচ্ছে এবং দারুণ ফর্মেও আছে।’

ফর্মটা ডর্টমুন্ডের বিপক্ষেও ধরে রাখবেন নেইমার, এমনটা নিশ্চিতভাবেই প্রত্যাশা করবেন জার্মান এই কোচ। তাহলে যে ২০১৫ সালের পর প্রথমবারের মতো শেষ ষোলোর গণ্ডিও উতরে যাওয়া যায়!

এদিকে পরের পর্বে যাওয়ার সমীকরণটা লিভারপুলেরও প্রায় একই। জয় ছাড়া উপায় নেই দলটির। তার আগে দুই দলেরই সাবেক খেলোয়াড় লুইস গার্সিয়া এগিয়ে রাখলেন লিভারপুলকেই। তিনি বলেন, ‘দুই দলের জন্যেই কাজটা কঠিন হবে। স্পেন আর মাদ্রিদেও ধারণাটা একই রকম। তারা জানে অ্যানফিল্ডে খেলাটা কঠিন এবং খুব কম দলই সেখান থেকে বেঁচে বেরিয়ে আসতে পারে, দর্শকরা সেখানে সব সময়ই দলকে সাহায্য করে। আমার মনে হচ্ছে পরিস্থিতি পালটে পরের পর্বে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত শক্তি, সামর্থ্য আর প্রতিভা আছে লিভারপুলের।’