তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে জয় বাংলা কনসার্ট

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২০, ১৯:৫২

খা লে দ  আ হ মে দ

 

‘জয় বাংলা’ স্লোগানটি যখন উচ্চারিত হচ্ছিল মঞ্চে, তখন স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো দর্শকের কণ্ঠেও উচ্চারিত হয় একই ধ্বনি ‘জয় বাংলা’। মহান মুক্তিযুদ্ধে এই স্লোগান যেমন সারাদেশের মানুষকে এক সূত্রে গেঁথেছিল, তেমনি প্রতিটি সঙ্কটে এবং জাতির অর্জনেও যেন এই স্লোগান পুরো জাতিকে একতাবদ্ধ করে। এই প্রত্যয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ৭ মার্চের ভাষণ উপলক্ষে গত শনিবার ‘জয় বাংলা’ কনসার্টের আয়োজন করে ইয়াং বাংলার সেক্রেটারিয়েট সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)।

কনসার্টে সন্ধ্যার পর উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা। তাদের মুখে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ৩২ নম্বর সড়কের বাড়ির পরিস্থিতি, তাদের মা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের দূরদর্শী পরামর্শের স্মৃতিচারণ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কণ্ঠে উচ্চারিত কবিতার পঙক্তি পুরো পরিবেশকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিআরআই ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আন্তর্জাতিক অটিজম বিশেষজ্ঞ সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। একাত্তরের রণাঙ্গনে বাংলার দামাল ছেলেদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল যে গানগুলো, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সেই কালজয়ী গানগুলো নিয়ে শুরু হয় এদিনের জয় বাংলা কনসার্ট।  তরুণদের পদচারণায় মুখরিত হয়েছিল আর্মি স্টেডিয়াম। দুপুর গড়িয়ে বিকাল হতেই পুরো আর্মি স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। গানের সুরে নেচে গেয়ে বিকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত আনন্দে মেতে ওঠেন তারা। তরুণদের ব্যান্ডদল ইনট্রোয়িট শোনায় লালন সাঁইয়ের গান ‘সহজ মানুষ ভজে দেখ না রে মন’।

কনসার্টটি উপভোগ করার জন্য হাজার হাজার সংগীতানুরাগী ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন করে। প্রতিটি ব্যান্ডদলই স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রচারিত অনুপ্রেরণামূলক গানগুলো গেয়ে শোনায় দর্শকদের। আর  বড় পর্দায় দেখানো হয় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটির রঙিন অংশ। এছাড়া মুজিব গ্রাফিক্স ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবর্ষকে ঘিরে চলা আয়োজন এবার ভিন্নমাত্রা যোগ করে জয় বাংলা কনসার্টে। সেন্টার অব রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) প্রতিষ্ঠান ইয়াং বাংলার তত্ত্বাবধানে ষষ্ঠবারের মতো হওয়া এই আয়োজনের শুরু হয় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে। বরাবরের মতোই ছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক উক্তি। কনসার্ট শুরুতে আসে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ৫ ব্যান্ডদল। পুরো কনসার্টে ব্যান্ডদলগুলোর গানের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বেশ কিছু ঐতিহাসিক উক্তি দিয়ে সাজানো হয়েছিল।

দুপুরের পর স্টেজে আসে জনপ্রিয় ব্যান্ডদল এফ মাইনর ব্যান্ড, মিনার রহমান, এভোয়েড রাফা, শূন্য, ভাইকিং, লালন, আরবোভাইরাস। এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বজ্রকণ্ঠে ঘোষিত ৭ মার্চের ভাষণ। সন্ধ্যার পর মঞ্চ মাতিয়ে রাখে ক্রিপটিক ফেইট, নেমেসিস, ফুয়াদ অ্যান্ড ফ্রেন্ড এবং চিরকুট। রেসকোর্স ময়দানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ স্মরণ করে এবং সেই ভাষণের গুরুত্ব সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে অবগত করার লক্ষ্যে বিগত ৫ বছর ধরে আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে জয় বাংলা কনসার্ট। এই কনসার্ট টেলিভিশন এবং অনলাইনে উপভোগ করেছে ১০ লাখেরও বেশি দর্শক। আর সরাসরি আর্মি স্টেডিয়ামে উপস্থিত থেকে কনসার্ট উপভোগ করেছে প্রায় ৬০ হাজার দর্শক। কনসার্টের মিডিয়া পার্টনার ছিল দৈনিক ইত্তেফাক।

 

শেষবেলায় ‘বেজ বাবা’ সুমনের গান

রাত সাড়ে ১১টায় পরিবেশনায় ছিল ব্যান্ড দল ‘ফুয়াদ অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’। এক পর্যায়ে এই ব্যান্ডের ফুয়াদ আল মুক্তাদির বলেন, ‘আমার বড় ভাই সুমনকে এখন মঞ্চে আহ্বান করছি।’ এ সময় ক্রাচে ভর দিয়ে দৃঢ় পদক্ষেপে মঞ্চের সামনে আসেন সুমন। তিনি নিজের চিকিত্সার সর্বশেষ অবস্থা জানানোর পাশাপাশি সুস্থতার জন্য ভক্তদের কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, ‘সবকিছু ঠিক থাকলে সার্জারির জন্য আগামী ১৮ মার্চ জার্মানি যাব।’ এরপর অর্থহীনের দর্শকনন্দিত গান ‘আমার প্রতিচ্ছবি’ এবং ‘গাইবো না আর কোনো গান তোমায় ছাড়া’ গেয়ে শোনান সুমন।