ফ য় জু ল আ ল আ মী ন
টিভি নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করছেন ফারজানা ছবি। সমপ্রতি এই গুণী অভিনেত্রী ‘জনকের মুখ’ শিরোনামে সরকারি অনুদানের একটি চলচ্চিত্রের শুটিং শেষ করেছেন। এতে তাকে দেখা যাবে একজন মুক্তিযোদ্ধার মায়ের চরিত্রে। আর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান চরিত্রে অভিনয় করেছেন স্বাক্ষ্য শহীদ। চলচ্চিত্রটির কাহিনি, সংলাপ ও পরিচালনায় রয়েছেন মান্নান হীরা। চলচ্চিত্রটির গল্পে দেখা যাবে, মমতা পঞ্চাশোর্ধ এক নারী। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে একমাত্র সন্তান সোলায়মানকে হারায়। সোলায়মান যুদ্ধে যাবার সময় মা মমতা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে একটি বার দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করে ছেলে সোলায়মানের কাছে। কিন্তু সোলায়মান যুদ্ধে শহীদ হয়, মৃত্যুকালে তার সহযোদ্ধা গোপালের হাতে মায়ের জন্যে বঙ্গবন্ধুর একটি ছবি রেখে যায়। তারপর থেকে ওই ছবিটিই হয়ে উঠে বৃদ্ধা মমতার একমাত্র সম্বল, অবলম্বন। ছবিটি কখনো তার কাছে জনক হয়ে ধরা দেয়, আবার কখনো-বা যুদ্ধে হারানো তার সেই সন্তান। ’৭১ থেকে ’৭৪ অবধি প্রতি বছর ১৪ আগস্ট তার সন্তান হারানোর দিনে মমতা বিননি ধানের সিন্নি রান্না করে দিয়ে আসেন মসজিদে, মন্দিরে, গীর্জায়। কিন্তু ’৭৫-এ এসে ১৪ আগস্ট ঘটতে থাকে যতসব অশুভ ঘটনা। এতে আতঙ্কিত হয়ে উঠেন মমতা। তারপর ১৫ আগস্ট শুনতে পান বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে শহীদ করার ঘটনা। পুনরায় নিঃস্ব ও সম্বলহীন হয়ে মমতা বিধাতার কাছে প্রশ্ন রাখেন—‘কী কারণে পিতার মরণ জালিমের হাতে?’
মমতা চরিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে ফারজানা ছবি বলেন, ‘এই চলচ্চিত্রে আমি একজন শহীদের মা। আমার বয়স দেখানো হয়েছে ষাটের কোঠায়। আমি যুদ্ধ দেখিনি, কিন্তু এ চরিত্রে যুদ্ধের বিভীষিকা নিজের মাঝে ধারণ করে অদেখা সব চরিত্রের কাল্পনিক অস্তিত্ব নিজের মাঝে সৃষ্টি করতে হয়েছে। অচেনা অতীতকে বর্তমানে এনে অজানা ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছে। এই চলচ্চিত্রের বেশকিছু দৃশ্যে মমতা চরিত্রের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর সরাসরি কথোপকথন দেখানো হয়েছে, যা সত্যিই আমার জন্যে বিশাল এক প্রাপ্তি।’
