ফল

তুঁত

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২০, ২১:৪৬

 

তুঁত ছোটো আকৃতির পত্রঝরা বৃক্ষ। পরিবার Moraceae, উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Morus Indica। পাতা ডিম্বাকার ও খসখসে, রং সবুজ, শিরা-উপশিরা স্পষ্ট, কিনারা করাতের মতো খাঁজকাটা এবং পাতার অগ্রভাগ সূচালো। কাণ্ড ও শাখা-প্রশাখা খুব বেশি শক্ত মানের নয়। শাখা-প্রশাখা ছড়ানো থাকে। আমাদের দেশে রেশম গুটি পোকা চাষের জন্য তুঁতগাছের গুরুত্ব রয়েছে। মূলত এজন্য চাষ করা হয়। এর পাতা রেশম পোকার প্রিয় ও প্রধান খাদ্য। তবে উত্তর ও দক্ষিণ ভারত এবং আফগানিস্থানে তুঁত চাষ করা হয় ফলের জন্য। আমাদের দেশে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, গাজীপুর ও দিনাজপুর এলাকায় তুঁতগাছ উত্পাদিত হয়। সাধারণত শাখা কাটিং পদ্ধতির মাধ্যমে এর বংশ বিস্তার করা হয়ে থাকে। বন্যামুক্ত উঁচু জমি, উর্বর দো-আঁশ থেকে বেলে দো-আঁশ মাটি তুঁত চাষের জন্য উপযোগী।

তুঁতগাছে ফুল ফোটার সময় ফেব্রুয়ারি মাস এবং ফল পরিপক্ব হয় মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে। গাছের নতুন শাখা-প্রশাখায় সাদা রঙের ক্ষুদ্রাকৃতির অসংখ্য ফুল ধরে। ফুল শেষে ফল আসতে শুরু করে। তুঁতগাছের বেলায় এর ফুল ও ফল ক্রমান্বয়ে ধরতে দেখা যায়। তাই একই গাছে ফুল, কাঁচা ফল, আধাপাকা ফল ও পাকা ফল চোখে পড়ে। ফল পত্রকক্ষ থেকে থোকায় গুচ্ছভাবে ধরে। যা গুচ্ছবদ্ধ ও আঙ্গুরের মতো থোকা থোকা। ফল ধরা তুঁতগাছের সৌন্দর্য বেশ দৃষ্টিনন্দন। কাঁচা ফলের রং সবুজ, পাকা ফল গোলাপি লাল থেকে লাল রঙের এবং সম্পূর্ণ পাকা ফল কালচে। ফল স্বাদে মিষ্টি এবং বেশ রসালো। এতে রয়েছে বহু রকম পুষ্টি উপাদান। যেমন আমিষ, শর্করা, চর্বি, হজমযোগ্য আঁশ, ক্যালসিয়াম, লৌহ ও ভিটামিন সি। তবে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ক্যালসিয়াম ও ক্যারোটিন। তাছাড়া পাকা তুঁত ফলের রস থেকে জ্যাম, জেলি, স্কোয়াস ও পানীয় তৈরি করা যায়।