মার্কিন মানবাধিকার প্রতিবেদন

বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চলছেই

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২০, ০১:১১

বাংলাদেশের সংবিধানে জীবনের অধিকার ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তারপরও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হচ্ছে। ২০১৯ সালেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সন্ত্রাসবিরোধী, মাদকবিরোধী এবং অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখে। এসব অভিযান, গ্রেফতারের সময় সন্দেহজনক হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সরকার সাধারণত এসব হত্যাকাণ্ডকে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ফল বলে দাবি করে। তবে মানবাধিকার সংগঠন এবং গণমাধ্যম ক্রসফায়ারে হত্যাকাণ্ডের অনেক ঘটনাকে বিচারবহির্ভূত বলে দাবি করেছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনীকে দায়মুক্তি দেওয়ার অনেক অভিযোগ রয়েছে; কিন্তু সরকার এসব ক্ষেত্রে তদন্ত ও বিচারে খুব কমই পদক্ষেপ নিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

২০১৯ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে করা প্রতিবেদনটি গতকাল বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির অংশে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিরাপত্তা বাহিনী দ্বারা বেআইনিভাবে আটক ও গুম, নির্যাতনের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। ‘প্রাইভেসিতে’ বেআইনিভাবে হস্তক্ষেপ, সেন্সরশিপ আরোপ, ইন্টারনেটে সাইট বন্ধ, বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) কাজের স্বাধীনতা সংকুচিত করার মাধ্যমেও মানবাধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে স্বাধীনতার অভাব, দুর্নীতি, সহিংসতা, লৈঙ্গিক বৈষম্য এখনো মানবাধিকারের বড়ো সমস্যা। মানব পাচার এখনো গুরুতর সমস্যা, শ্রম অধিকার সংকুচিত রাখা হয়েছে এবং শিশুশ্রমের অবস্থা খুবই করুণ।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশ অংশের শুরুতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে অভাবনীয়ভাবে টানা তৃতীয় মেয়াদে জয়লাভ করেছে। এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও অবাধ বলে বিবেচনা করা হয়নি। নির্বাচনে অনিয়মের বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।