উইথ ক্লাইভ ইন ইন্ডিয়া

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২০, ১৯:২৩

উনিশ শতকের একজন অতিপ্রজ ঔপন্যাসিক এবং সাংবাদিক জর্জ আলফ্রেড হেনটি একজন সমর-সংবাদদাতা হিসেবে আহরিত জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা থেকে বিভিন্ন যুদ্ধে জড়িত সাহসী তরুণদের নিয়ে একাধিক ঐতিহাসিক অ্যাডভেঞ্চারমূলক উপন্যাস রচনা করেন, তার মধ্যে ‘উইথ ক্লাইভ ইন ইন্ডিয়া’ উপন্যাসটি নিঃসন্দেহে যেকোনো বাঙালি পাঠকের মনে দাগ কাটবে।

... তরুণ চার্লি মারিয়াত আর পিটার্স কেরানি হিসেবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরিতে যোগ দিল, ওরা স্বপ্নেও ভাবেনি, কী ধরনের অ্যাডভেঞ্চার ওদের জন্য অপেক্ষা করছে ... ভারতে পৌঁছার পর ঐ যুগলের সঙ্গে রবার্ট ক্লাইভের দেখা হলো, যিনি জন্মগতভাবে একজন সামরিক নেতা প্রমাণিত হয়েছিলেন। ক্লাইভ কি ফরাসিদের পরাজিত করতে পারবেন? চার্লি এবং তার বন্ধুরা কি যুদ্ধের হুমকি, বাঘ এবং কলকাতার অন্ধকূপ থেকে নিজেদের বাঁচাতে পারবে? এসব প্রশ্নের উত্তরসহ চার্লির প্রেয়সীকে উদ্ধারের ঘটনা জানা যাবে ‘উইথ ক্লাইভ ইন ইন্ডিয়া :অথবা একটি সাম্রাজ্যের উত্থান বইটিতে। মধ্য আঠারো শতকের ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং ইংল্যান্ডের পটভূমিতে রচিত এ বইটিতে আধুনিক পাঠকের মনের খোরাক মেটাবার মতো প্রচুর তথ্য রয়েছে।

তরুণ কেরানি ক্লাইভের ভারতে অবতরণ এবং চাকরিজীবনের শেষের মাঝখানের সময়টি অত্যন্ত ঘটনাবহুল এবং সংকটময় ছিল। শুরুতে ইংরেজরা বণিক হিসেবে দেশীয় রাজাদের আশ্রয়ে ছিল। অবশেষে ওরা বাংলা এবং দক্ষিণ ভারতের অধিকাংশ এলাকার প্রভু হয়েছিল। লেখক সেই অস্থির সময়ের ঘটনাবলি, একের পর এক দ্রুত ঘটে যাওয়া যুদ্ধ এবং অবরোধের পূর্ণ বিবরণ, রুদ্ধশ্বাস অ্যাডভেঞ্চার এবং বীরত্বের কাহিনি মিশিয়ে বইটির প্রতি পাঠকের আগ্রহের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছেন।

সবশেষে পলাশীর যুদ্ধ এবং নবাব সিরাজউদ্দোলার পরিণতির মর্মস্পর্শী বিবরণটি বাঙালি পাঠকের মনে দাগ কাটবে। মীরমদনের মৃত্যুর ঘটনাটি সিরাজউদ্দোলার ভাগ্যের ওপর প্রচণ্ড আঘাত ... তিনি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কে সন্দিহান ছিলেন ... তার পিতার কাছে মীরজাফর কী কী সুবিধা পেয়েছিলেন, স্মরণ করিয়ে মুকুট মাটিতে রেখে বললেন, ‘জাফর, আপনাকে অবশ্যই এই মুকুটের মর্যাদা রাখতে হবে।’

জাফর তার আনুগত্যের নিশ্চয়তা দিয়ে—জীবন দিয়ে সিংহাসন রক্ষার শপথ নিলেন। তারপর ক্লাইভের কাছে দূত পাঠিয়ে অবিলম্বে আক্রমণ করার জন্য তাড়া দিলেন।...

তত্কালীন শিল্পীর আঁকা ছবিসহ সহজ-সরল ভাষায় রচিত এবং কাজী আখতারউদ্দিন অনূদিত এই ঐতিহাসিক উপন্যাসটি রোদেলা থেকে প্রকাশিত হয়েছে। প্রচ্ছদ এঁকেছেন মোবারক হোসেন লিটন।