বেদ-এর পূর্বাহ্নে
কে তুমি যমুনার তীরে
মাছ ধরো?
‘আমি এক জেলে’,
কী তোমার নাম?
‘আমি তো হোমোস্যাপিয়েন্স—
দু পায়ে হাঁটি
অযোধ্যা থেকে মক্কা
লুম্বিনী থেকে জেরুজালেম আমারই গ্রাম;
প্রাকৃতে কথা কই,
অযোধ্যার নিরীহ কৃষক আমি,
হরিকেলে কুমার,
নীলগাই ধরে খাই পঞ্চবটী’।
ত্রিপিটক পূর্বাহ্নে কে জাগো কপিলাবস্তু?
‘আমি এক মাঝি রোহিনীর তীর,
পার করি লোক,’
কী তোমার জাত?
‘আমি তো মরণ জাতের জাতক এক,
তাই জানি ভাই,
বাপ গেছে
দাদা গেছে
আমিও তো যাবো;
আসা আর যাওয়ার ভেতর
আমি তো কদিনের নাদান পরানি, সামান্য ছাই!’
কোরান ইঞ্জিল তাওরাতের আগে
কে তুমি মরুবাসী লু লু প্রান্তর?
‘জানি না তো নাম কী,
আমি এক সরল মেষপালক—
ফোরাত নীল ভাগীরতী ইরাবতী
ফল্গুরা আমারই তিয়াস মিটায়
যতদিন বাঁচি!
জেলে
মাঝি
কৃষক
কুমার
শিকারি
মেষপালক
শুনেছি আমাদের পিতা এক
আদম হোমোস্যাপিয়েন্স!’
কে তবে যমুনার জল—
জাত বলে লাল করো
শোণিতের ভাইয়ে?
রামায়ণ নাকি হোমোস্যাপিয়েন্স আগে?
তার কী জাত ছিলো,
কী তার নাম—
তার কি ভাগ ছিলো—
ভারত পাকিস্তান?
তার কি ভাগ ছিলো—
ইজরায়েল প্যালেস্টাইন?
তার কি ভাগ ছিলো—
নাফ-এর সলিলে বার্মিজ বাঙ্গাল।
