ইসলামের দৃষ্টিতে করোনা ভাইরাস

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২০, ২১:৪৮

সাম্প্রতিক চীন থেকে উত্পন্ন করোনা ভাইরাস নামক মহামারি সম্পূর্ণ বিশ্বের মানুষকে আতঙ্কে ফেলে দিয়েছে। বিশ্বের ৯০টি দেশে ছড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশেও প্রবেশ করেছে, তবে এটা এখনো মহামারিতে রূপান্তরিত হয়নি। মহামারি একধরনের আল্লাহর আজাব :ব্যাপক হারে মানুষ আল্লাহ তাআলার অবাধ্য হলে আল্লাহ পৃথিবীতে গজব নাজিল করেন, যাতে মানুষ তাদের ভুল বুঝতে পেরে তওবার মাধ্যমে আবার ফিরে আসতে পারে। রাসুল (স) বলেছেন, ‘এটি আল্লাহর গজব বা শাস্তি বনি ইসরাইলের এক গোষ্ঠীর ওপর এসেছিল, তার বাকি অংশই হচ্ছে মহামারি। অতএব, কোথাও মহামারি দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থানরত থাকলে সে জায়গা থেকে চলে এসো না। অন্যদিকে কোনো এলাকায় এটা দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থান না করলে সে জায়গায় যেয়ো না।’ [তিরমিজি :১০৬৫] মহামারিতে প্রভাবিত এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ ও বের হওয়া নিষিদ্ধ :রাসুল (স) বলেন, ‘তোমরা যখন কোনো এলাকায় প্লেগের বিস্তারের কথা শুনবে, তখন সেখানে প্রবেশ কোরো না। আর যদি কোনো এলাকায় এর প্রাদুর্ভাব নেমে আসে, আর তোমরা সেখানে থাকো, তাহলে সেখান থেকে বেরিয়ে যেয়ো না।’ [সহিহ বুখারি :৫৭২৯] মহামারি মুমিনদের জন্য রহমতস্বরূপ ও মৃতের জন্য শাহাদাতের ঘোষণা রয়েছে। রাসুল (স) বলেছেন, ‘এটা হচ্ছে একটা আজাব। আল্লাহ তার বান্দাদের মধ্যে যাদের ওপর ইচ্ছা তা প্রেরণ করেন। তবে আল্লাহ মুমিনদের জন্য তা রহমতস্বরূপ করে দিয়েছেন। কোনো ব্যক্তি যদি প্লেগে আক্রান্ত জায়গায় সওয়াবের আশায় ধৈর্য ধরে অবস্থান করে এবং তার অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস থাকে যে আল্লাহ তাকদিরে যা লিখে রেখেছেন তা-ই হবে, তাহলে সে একজন শহিদের সওয়াব পাবে।’ [সহিহ বুখারি :৩৪৭৪] মহামারি আল্লাহর গজব হলেও এতে আক্রান্ত মৃত ব্যক্তিকে পাপি বা জাহান্নামি মনে করা যাবে না। রাসুল (স) বলেন, ‘(প্লেগ) মহামারিতে মৃত্যু হওয়া প্রত্যেক মুসলিমের জন্য শাহাদাত।’ [সহিহ বুখারি :২৮৩০] মহামারি থেকে মুক্তির দোয়া :রাসুল (স) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তিনবার ‘বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদ্বুররু মাআসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামা-ই, ওয়াহুয়াস সামী‘উল আলীম’ পড়বে, সকাল হওয়া পর্যন্ত তার প্রতি কোনো হঠাত্ বিপদ আসবে না। আর যে তা সকালে তিনবার বলবে, সন্ধ্যা পর্যন্ত তার ওপর কোনো হঠাত্ বিপদ আসবে না।’ [আবু দাউদ :৫০৮৮]। আবার রাসুল (স) এই দোয়াটিও পড়তে বলেছেন, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আওজুবিকা মিনাল বারাসি, ওয়াল জুনুনি, ওয়াল জুযামি, ওয়া সাইয়ি ইল আসক্কাম।’ [তিরমিজি :৩৬৮৭] করোনা ভাইরাস থেকে বেঁচে থাকতে ডাক্তাররা সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় থাকতে বলছেন। আর রাসুল (স) বলছেন, ‘পবিত্রতা ইমানের অঙ্গ।’ [সহিহ মুসলিম :৫৫৬]। আমাদের সবার উচিত রাসুল (স) কর্তৃক প্রবর্তিত সমাধান মেনে চলা এবং আল্লাহর কাছে নিজ নিজ গোনাহের জন্য তওবা করা এবং এই আজাব থেকে মুক্তির জন্য দোয়া করা। তাহলে আল্লাহর অনুগ্রহে এই মহামারি দূর হবে।

—লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়