কেন রাজনীতিবিদরা করোনা ভাইরাসে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন?

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২০, ১৭:৫৫

এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন এক লাখ একুশ হাজার একষট্টি জন। রাজনীতিবিদরা মনে করছেন, অন্য শ্রেণির লোকেদের চেয়ে তারা এই ভাইরাসে বেশি সংক্রমিত হচ্ছেন।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের কম্পিউটেশনাল সিস্টেম বায়োলজির অধ্যাপক ফ্রাঙ্কোইস ব্যালাক্স যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম টাইমকে বলেছেন, পরিসংখ্যান গত দিক থেকে অন্যান্য সময়ের থেকে এবার অনেক বেশি রাজনীতিবিদ এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন।

ইরান এবং ইউরোপ জুড়ে একাধিক হাই প্রোফাইল রাজনীতিবিদরা জানিয়েছেন, তারা রীতিমতো করোনা ভাইরাস নিয়ে লড়াই করছেন।

এদিকে ইরানের কাউন্টার-করোনাভাইরাস টাস্ক ফোর্সের প্রধান ইরজ হারির্চি বলেছেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি রোগের প্রাদুর্ভাবের তীব্রতা কমিয়ে দেওয়ার পরে তা নির্ণয় করা হয়েছিল। এর পরে আরো ২০ জন ইরানী সংসদ সদস্য সংক্রামিত হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন এবং কমপক্ষে দুজন মারা গেছেন। ইরানের সঙ্কট পরিচালন সংস্থার প্রধান ইসমাইল নাজ্জারকেও কোভিড-১৯ চুক্তি করার পরে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে।

ইউরোপে ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন ও ইতালি প্রবীণ রাজনীতিবিদরা আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন। ফরাসী সংস্কৃতি মন্ত্রী ফ্রাঙ্ক রিয়েস্টার ৯ মার্চ পরীক্ষা করেছিলেন। তিনি এই ভাইরাসে আক্রান্ত। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়েস্টার জাতীয় সম্মেলনে যেখানে ছিলেন সেখানে ৫ জনের করোনা ভাইরাস রয়েছে বলে জানা গেছে। 

আরও পড়ুন: করোনা: বিশ্বজুড়ে সুস্থ হয়েছেন ৭০ হাজার রোগী

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাদিন ডরিসও এই সপ্তাহে পরীক্ষা করিয়েছেন। তিনিও আক্রান্ত। জানা গেছে, অসুস্থ হওয়ার আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের পাশাপাশি অন্যান্য বিশিষ্ট রাজনীতিবিদদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছিলেন।

এদিকে ইতালীয় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা নিকোলা জিংগেরেটি একটি ফেসবুক ভিডিওতে ঘোষণা করেছেন যে তিনিও ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ৭ মার্চে পোস্ট করা ওই ভিডিওতে তিনি বলেন ‘আমিও করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত’।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, রাজনীতিবিদরা কেন সাধারণ জনগণের চেয়ে বেশি হারে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন তার জন্য বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা রয়েছে। 

বিশেষজ্ঞ ফ্রাঙ্কোইস ব্যালাক্স জানিয়েছেন, রাজনীতিবিদরা সাধারণ মানুষের চাইতে অনেক বেশি মানুষের সঙ্গে  যোগাযোগ করছেন। তার সব সময় করমর্দন ও অনেক লোকের কাছাকাছি থাকছেন।

রাজনীতিবিদরা যখন বিশ্বব্যাপী এই ভাইরাসে সংক্রমিত হচ্ছেন তখন কোনো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মকাণ্ড বন্ধ করেনি। এটি এই ভাইরাসের বিস্তারকে আরো প্রসারিত করছে। মঙ্গোলিয়া থেকে স্কটল্যান্ডের রাজনীতিবিদরা কোভিড ১৯ -এর সংস্পর্শে আসার পরে স্ব-বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো অন্য রাজনীতিবিদরা এখনও স্বেচ্ছাসেবীর কাজ করে চলেছেন। এখনও তারা সহকর্মীদের সংস্পর্শে আশা থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেননি।

ইত্তেফাক/এসি