সেপ্টেম্বরে চালু হচ্ছে নুনদহ ঘাট সেতু

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২০, ২০:৫৭

হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন সহজ হবে

পীরগঞ্জ (রংপুর) সংবাদদাতা

পীরগঞ্জ-ঘোড়াঘাট উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে চলা করতোয়া নদীর নুনদহ ঘাটে প্রায় ২৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুর নির্মাণকাজ এগিয়ে চলেছে। উপজেলার চতরা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল গিলাবাড়ী নামক স্থানে করতোয়া নদীর ওপর নির্মাণাধীন নুনদহ ঘাট সেতু দৃশ্যমান হওয়ায় দুই উপজেলার মানুষ আনন্দিত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সেতুটির দৈর্ঘ্য ৩০১ মিটার, প্রস্থ ৯ দশমিক ৮ মিটার। ব্রিজটি নির্মিত হলে রংপুর এবং দিনাজপুর জেলার পীরগঞ্জ ও ঘোড়াঘাট উপজেলার মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি হবে। দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর হয়ে পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এই সেতুটি। রংপুর ও দিনাজপুর জেলার মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হবে। পল্লি সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ ব্রিজটি নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এই প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা।

চতরা ইউপি সদস্য নূর মোহম্মদ গোল্লা জানান, এই ব্রিজ নির্মাণ হলে পীরগঞ্জ ও হিলি স্থলবন্দরের দূরত্ব কমে আসবে ব্যবসা-বাণিজ্য বেগবান হবে। ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মান্নান মিয়া বলেন, ঘোড়াঘাট থেকে বিভাগীয় শহর রংপুরের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার কমে যাবে। ঘোড়াঘাট উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের স্থায়ী বসিন্দারা জানান বুলাকিপুর, রানীগঞ্জহাট, ডুগডুগির হাট, বলগাড়ীসহ এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। বুলাকিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহফুজার রহমান লাবলু জানান, স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া সুবিধাজনক হবে। পীরগঞ্জের চতরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনামুল হক শাহীন জানান, এ অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় তার প্রভাব সব কিছুতেই পড়বে। সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী নাসিম মাহমুদ জানান, সেতু প্রকল্প সমাপ্তির মেয়াদকাল চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর। দ্রুতগতিতে কাজ চলমান থাকায় নির্ধারিত মেয়াদকালের মধ্যেই এ সেতু দিয়ে জনসাধারণ চলাচল উন্মুক্ত হবে বলে আশা করছি।

উপজেলা প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম জানান, নুনদহ ঘাটে করতোয়া নদীর ওপর সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। এরই মধ্যে সেতুটির ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। পীরগঞ্জ সীমানায় ৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়কের উন্নয়নের কাজও এগিয়ে চলছে। ঘোড়াঘাট উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম বলেন, সেতুটি নির্মিত হলে পীরগঞ্জ-ঘোড়াঘাট উপজেলার ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ সহজতর হবে। পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার টি এম এ মমিন জানান, সেতুটির কাজ সম্পন্ন হলে কৃষিসহ সব ক্ষেত্রে এর ইতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান হবে। রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের ৫ লক্ষাধিক মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সেতু এলাকা পরিদর্শন করেন। সে সময় তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে সেতু চালু হবে।