চা-শ্রমিক পরিবারগুলোতে বাড়ছে বেকারত্ব

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২০, ২১:১৯

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

চা-বাগানের শ্রমিক পরিবারগুলোতে বাড়ছে বেকারত্ব। শ্রমিক পরিবারগুলোর বেকার ছেলেমেয়েদের অনেকে বাগানে কাজ না পেয়ে দূরবর্তী অঞ্চলে বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন, মাটি কাটা, কৃষিকাজ ও নার্সারিসমূহে গিয়ে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন। হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে এসব পরিবারের শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা। পরিবারের সাত, আট সদস্যের মধ্যে এক জনের দৈনিক ৮৫ টাকা মজুরিতে কোনোমতেই সংসার চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বেকারত্ব ঘোচাতে বাগানের পতিত জমিতে নতুন চা-বাগান করা, কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে ঋণ সুবিধা দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সর্বোপরি বাগানের শিক্ষিত বেকারদেরকে বোঝা মনে না করে জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান বাগান সংশ্লিষ্টরা।

চা-শ্রমিক ইউনিয়ন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সারা দেশে ১৬৫টি চা-বাগানের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশু মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠী রয়েছে। এদের মধ্যে চা-বাগানে স্থায়ী শ্রমিক হিসেবে রয়েছে প্রায় ৯১ হাজার এবং অস্থায়ী ৩২ হাজার মিলিয়ে কর্মরত আছেন প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার। এছাড়া প্রায় অর্ধলক্ষাধিক শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী এবং প্রায় আড়াই লাখ বেকার নারী-পুরুষ রয়েছে। অনেক যুবক-যুবতি এসএসসি, এইচএসসি, বিএ পাশ।

শমশেরনগর চা-বাগানের শ্রমিক সবিতা নায়েক, ফাঁড়ি দেওছড়া চা-বাগানের বেকার নারী শ্রমিক শান্তি রবিদাস বলেন, আমরা স্বামী-স্ত্রীসহ পরিবারের পাঁচ থেকে আট জন সদস্যের মধ্যে একমাত্র স্বামীর দৈনিক ১০২ টাকা মজুরি দিয়ে কাজ করে সংসার চালাতে হচ্ছে। শমশেরনগর চা-বাগান এর নারী শ্রমিক কাঞ্চনী বাউরী বলেন, আমার একমাত্র মেয়ে আরতি বাউরী এসএসসি পাশ করে ঘরে বসেই বেকার জীবনযাপন করছে।  

শমশেরনগর জাগরণ যুব ফোরামের সভাপতি মোহন রবিদাস ও উত্তরণ বাংলাদেশের সভাপতি অনুময় বর্মা বলেন, আমাদের চা-বাগানে বেকারত্বের বোঝা ভারী হচ্ছে। যুবকদের অনেকেই কাজ না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত। তারা আরো বলেন, অভাবী সংসারের লাগাম টানতে কেউ কেউ বস্তি এলাকায় গিয়ে মাটি কাটা, লাকড়ি তৈরিসহ মজুরের কাজ করছেন।

শমশেরনগর কানিহাটি চা-বাগানের ইউপি সদস্য সীতারাম বীন বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ চা-শিল্পে বাগানের পতিত জমিতে নতুন চা-বাগান করা, কারিগরি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, নিরাপত্তা গ্রুপ তৈরি, শিক্ষার হার বৃদ্ধি এজন্য চা-শ্রমিক, মালিক ও সরকার পক্ষকে একযোগে কাজ করে বেকারত্ব মুক্ত না করলে ভবিষ্যতে সমস্যা প্রকট হবে।

চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাজভজন কৈরী জানান, চা-বাগানে শ্রমিকদের ব্যাপক একটি অংশ বেকার রয়েছে। সারা দেশে চা-বাগানের শিক্ষিত চা জনগোষ্ঠীর সুনির্দিষ্ট জরিপ সম্পন্ন করা না হলেও প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী রয়েছে। এছাড়া এসএসসি পর্যায়ে উত্তীর্ণ অনুত্তীর্ণদের মধ্যে রয়েছে শোচনীয় অবস্থা। তিনি আরো বলেন, এদের কর্মসংস্থানের জন্য মালিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে শ্রমিকের ক্ষেত্রে শ্রমিক নিয়োগ, সাতটি ভ্যালিতে কারিগরি বিদ্যালয় স্থাপন ও সরকারি চাকরিতে উচ্চশিক্ষিতদের ক্ষেত্রে কোটা সুবিধার দাবি জানানো হয়েছে।