লবণচাষিরা উত্সাহ হারালে স্বয়ংসম্পন্ন উত্পাদন খাতটি নিজস্বতা হারাবে

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২০, ২১:১৯

ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান

কক্সবাজার প্রতিনিধি

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান তপন কান্তি ঘোষ বলেছেন, লবণ বিকল্পহীন খাদ্যপণ্য। আর এ পণ্যটি দেশেই শতভাগ উত্পাদন হয়। তাই যারা এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত তাদের সবার স্বার্থ রক্ষা করা দরকার। চাষিরা ন্যায্যমূল্য না পেলে উত্সাহ পাবেন না। এতে স্বয়ংসম্পন্ন উত্পাদন খাতটি নিজস্বতা হারাতে পারে। এ কারণে লবণচাষি ও আমদানিকারকদের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখেই লবণের দাম নির্ধারণ করা প্রয়োজন। চাষি ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করে যৌক্তিক দাম নির্ধারণ হলে লবণ খাতে সফলতা অব্যাহত থাকবে। শুক্রবার কক্সবাজারের হিলটপ সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসন, স্থানীয় এমপি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যানের উদ্দেশে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন, লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে না পারলে এ শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। আগামী মৌসুমে চাষিদের মাঠে নামানো যাবে না। লবণ যেন পেঁয়াজের মতো না হয়।

সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, সিন্ডিকেট ও দালাল শ্রেণির কাছে জিম্মি হয়ে গেছে লবণ খাত। প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এখনো লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হয়নি। বর্গাচাষিরাও খরচ না উঠায় হতাশ। যে কারণে লবণশিল্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে অনেকে।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যানকে জানান, সরকারের মেগা প্রকল্পের কারণে অনেক লবণ জমি কমে গেছে। বেকার হয়ে পড়েছেন চাষিরা। যেসব জমিতে লবণ উত্পাদন হচ্ছে তাতে সঠিক দাম না পেলে চাষিরা হারিয়ে যাবেন। তাই আমদানি ব্যতিরেখে, ন্যায্যমূল্যে মাঠ থেকেই সরকারিভাবে লবণ কেনার উদ্যোগ নিতে অনুরোধ জানান জেলা প্রশাসক।

বৈঠকে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সদস্য শাহ মোহাম্মদ আবু রায়হান আলবেরুনি, বিসিকের ডিজিএম মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান, লবণচাষি কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. কাইছার ইদ্রিস, বিসিকের অডিট অফিসার ইদ্রিছ আলী উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান তপন কান্তি ঘোষ বৃহস্পতিবার বিকালে কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডিতে বিসিকের পাইলট প্রকল্প ও লবণমাঠ পরিদর্শন করেন। কথা বলেন লবণ শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। সেখান থেকে লবণ শিল্পনগরী ইসলামপুরে বিভিন্ন লবণমিল ঘুরে দেখেন তিনি।

উল্লেখ্য, জেলায় বর্তমানে মাঠে লবণ উত্পাদনে জড়িত ৪৪ হাজারের বেশি চাষি পরিবার। নভেম্বর থেকে মে মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ছয় মাস লবণ উত্পাদন চলে।