জাফরান চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২০, ২১:২৪

আবুল কাসেম ভূঁইয়া

 

বিশ্বের সবচাইতে দামি এবং দুর্লভ মসল্লা হচ্ছে জাফরান। বাংলাদেশে এখনো পর্যন্ত এর ব্যাপক চাষ শুরু হয়নি। কৃষি বিজ্ঞানীরা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় ২০০০ সালের দিকে দেশের ময়মনসিংহ জেলাসহ ৯টি বিএডিসি উদ্যানে জাফরানের পরীক্ষামূলক চাষ শুরু হয়। বর্তমানে ময়মনসিংহ, মুক্তাগাছা, গাজীপুর, পাবনা, রংপুর, বান্দরবান, জামালপুর, লামা এবং খুলনার বিএডিসি সার্ভিস সেন্টারে জাফরানের পরীক্ষামূলক চাষ চলছে। কিন্তু আশানুরূপ সাফল্য আসেনি। জাফরান পৃথিবীর অন্যতম দামি মসল্লা, এটি রেড গোল্ড নামেও পরিচিত। জাফরানের আদি নিবাস হচ্ছে গ্রীস। জাফরানের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় তা ধীরে ধীরে কান্দাহার, খোরাসন, কাশ্মিরের বনেদী মহলে ব্যাপক ব্যবহারের প্রয়োজনে ভারত উপমহাদেশে এর বিস্তার ঘটে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত অনেক দেশেই জাফরান চাষ প্রচলিত আছে। তাছাড়া আফগানিস্তান, ইরান, তুরস্ক, গ্রিস, মিশর, চীন এসব দেশে কমবেশি জাফরানের চাষ হয়। স্পেন এবং ভারতের যেকোনো অংশে বিশেষ করে কাশ্মীরে জাফরানের চাষ বেশি হয়ে থাকে। তবে অন্যান্য দেশের তুলনায় স্পেন জাফরান উত্পাদনে বেশ এগিয়ে আছে। জাফরান রপ্তানিকারক অন্যতম দেশ হিসেবে স্পেন বেশ সুপরিচিত। বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় শতকরা ৭০ ভাগ জাফরান স্পেন রপ্তানি করে থাকে। জাফরানের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। বিশেষ করে পোলাও, কোর্মা, বিরিয়ানী, জর্দা, কালিয়া রান্না করতে জাফরান ব্যবহার করে থাকে। অনেক পান বিলাসীরা পানের সঙ্গে জাফরান ব্যবহার হয়ে থাকে।

জাফরান গাছ রোপণের প্রথম বছর ফুল আসে না। এসময় শতকরা ৪০-৬০ ভাগ গাছে ফুল আসতে পারে। এক গ্রাম জাফরান পেতে প্রায় ১৫০টি ফুটন্ত ফুলের প্রয়োজন হবে। ফুটন্ত ফুলের গর্ভদণ্ড (স্টিগমা) সংগ্রহ করে তা থেকে জাফরান পাওয়া যায়। জাফরান গাছ রোপণের তৃতীয় বছরের পর থেকে প্রতিটি গাছে পাঁচ-সাতটি ফুল আসতে শুরু করে। জাফরান গাছের মোথা বা বালব (অনেকটা পেঁয়াজের মতো) সংগ্রহ করে তা বংশ বিস্তারের কাজে ব্যবহার করা হয়। এক বছর বয়স্ক গাছ থেকে রোপণ উপযোগী মাত্র দুটি মোথা পাওয়া যায়। তবে তিন-চার বছর পর এক একটি গাছ থেকে পাঁচ-সাতটি মোথা পাওয়া যেতে পারে। নতুন জমিতে রোপণ করতে হলে তিন-চার বছরের বেশি ফসল রাখা উচিত নয়। প্রায় সবধরনের জমিতে জাফরান ফলানো যায়। তবে বেলে-দোঁআশ মাটি জাফরান চাষে বেশি উপযোগী। এটেল মাটিতে জাফরানের বাড়বাড়ন্ত ভালো হয় না। জলাবদ্ধ স্থানে এই গাছ টিকে থাকতে পারে না। এজন্য পানি নিষ্কাশন সুবিধাযুক্ত উঁচু বা মাঝারি উঁচু জমি এ ফসলের জন্য নির্বাচন করতে হয়। ছায়া অথবা আধা ছায়াযুক্ত স্থানে এ ফসল ভালো হয় না। পর্যাপ্ত রোদ ও আলোবাতাস প্রাপ্তি সুবিধা আছে এমন স্থানে এ ফসল চাষে বেশি উপযোগী। বর্ষা শেষ হওয়ার পূর্বক্ষণে জুলাই-আগস্ট মাসে এ ফসলের মোথা বা বালব রোপণ করা হয়। জমি তৈরির কালে প্রতিশতক জমিতে পঁচা গোবর, আবর্জনা, পঁচা সার ৩০০ কেজি, টিএসপি তিন কেজি, এমওপি চার কেজি প্রয়োগ করে ভালোভাবে মাটির সঙ্গে সমস্ত সার মিশিয়ে হালকা সেচ দিয়ে রেখে দুই সপ্তাহ পর পর জাফরান বালব রোপণের উপযোগী হবে। বসতবাড়ি এলাকায় এ ফসল চাষের জন্য বেশি উপযোগী।