প্রতিপক্ষের হামলা থেকে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে বৃদ্ধার মৃত্যু

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২০, ২১:৪৬

বাড্ডায় সিটি নির্বাচনের জের, আহত দুই জন

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ঢাকার বাড্ডায় প্রতিপক্ষের আক্রমণ থেকে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া এক বৃদ্ধা হাসপাতালে মারা গেছেন। রোকেয়া বেগম নামের ৬৭ বছর বয়সি ঐ নারী ছিলেন বাড্ডার বেরাইদ পাটনি পাড়া এলাকার বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে নাতি ফয়সাল হোসেন তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষের চাপাতির কোপে আলমগীর হোসেন (৩৫)সহ দুই জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদেরকেও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বাড্ডা থানার ওসি পারভেজ ইসলাম বলেন, ঐ বৃদ্ধার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। সিটি নির্বাচন ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষ তার বাসায় হামলা চালানোর সময় হাইপারটেনশনে অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় আলমগীরসহ দুই জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে জাহিদ (৫৮) ও তার ছেলে নূর আলম (৩৫) নামে দুই জনকে গ্রেফতার করেছে।

ঐ বৃদ্ধার নাতি ফয়সাল বলেন, তাদের বাসা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে। গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমকে সমর্থন দিয়েছিলেন তার মামা আলমগীর হোসেন। কিন্তু ঐ প্রার্থী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আইয়ুব আনছার মিন্টুর কাছে পরাজিত হওয়ার পর থেকে প্রতিপক্ষের লোকজন হুমকি দিচ্ছিল। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রতিপক্ষের ৩০-৪০ জন লোক এসে বাড়িতে হামলা করে এবং তার মামা আলমগীরকে মারার চেষ্টা করে। এ সময় রোকেয়া হামলাকারীদের হাত থেকে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। রোকেয়াকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বাড্ডা থানার ওসি আরো বলেন, নির্বাচনের পর থেকে ঐ এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে রেষারেষি চলছে। বৃহস্পতিবার রাতে আলমগীরের বাসায় হামলার পরপরই পুলিশ সেখানে গিয়ে কারা হামলা চালিয়েছে তাদের নামও জানতে পেরেছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরদিন ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে বিজয়ী কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকরা পরাজিত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের বাসায় ভাঙচুর করে। এছাড়া ঐ এলাকার অন্তত ৩০/৪০টি বাড়ি ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের নিজস্ব প্রতিবেদক হাসনাইন তানভীর ও ক্যামেরাপার্সন সাইফুল ইসলামকে মারধর করা হয়। কাউন্সিলরের সমর্থকরা গাড়ি ও ক্যামেরা ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ।