ঠাট্টার জন্মদিন

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২০, ১৮:৩৭

/ শাহাদাত্ ফাহিম

 

জন্মদিনের একখান কৌতুক দিয়ে লেখাটা শুরু করা যাক। কৌতুকটা হচ্ছে এই—  একলোক...।

দুঃখিত, শুরু করার মুহূর্তেই কৌতুক ভুলে গেছি। কিছুতেই মনে করতে পারছি না। পারলে পরবর্তী সময়ে শোনানোর ইচ্ছা থাকল।

আসলে আজকাল ইনসানকুল অতীব ব্যস্ত জীবন যাপন করছে। এতই ব্যস্ত, এতই ব্যস্ত, এবং এতই ব্যস্ত যে, নিজের জন্মদিনের কথাও মনে রাখার ফুরসত পায় না।

তবে বহুসংখ্যক এই ব্যস্ত ইনসান ফেসবুকের নোটিফিকেশনের বদৌলতে নিজেদের জন্মদিনের খবর জানতে পারে। এতেই তাদের রক্ষা হয়। না হলে প্রায় নিশ্চিত করে বলা যায় যে, বিয়ে করতে গেলে বিরাট বিপত্তি দেখা দিত। কারণ নোটিফিকেশনের জন্মদিনের মাধ্যমেই জেনে নিতে পারছে নিজের বয়সের হিসেব। আর হিসেব জানার ফলেই অনুমান করা সহজ হচ্ছে বিয়ের বয়স হয়েছে কি-না।

তবে ইনসানকুল অতীব ব্যস্ত জীবন যাপন করলেও সমাজে একশ্রেণির জীব রয়েছে— যারা নিজের জন্মদিনের কথা তো মনে রাখেই, আরো দু’চার জনেরটাও রাখে। রাখে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে। এরা কারা, নাম বলে চাকরি হারানোর কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ ইনাদেরকে সমাজে প্রেমিক-প্রেমিকা হিসেবে সবাই চেনে। ইনারা প্রেমের কল্যাণে উপহার আদান-প্রদান করার জন্যই মূলত এটি মনে রাখে। রাখে মানে রাখতে বাধ্য। না রাখলে খবর আছে। কারণ উপহারের ওপর ভর করেই আজকাল পিরিতিগুলো টিকে থাকে। ফলে ইনারা নোটিফিকেশন নির্ভর নয়। ইনারা আঙুলের করের ওপর নির্ভরশীল। ইনাদের কাছে করোনা ভাইরাসের কোনো ভয় নেই। আছে প্রেম ভাঙ্গাভাঙ্গির ভয়। ইনারা মাস্কে বিশ্বাসী নয়। প্রেমের মানুষটির সন্তুষ্টিতে বিশ্বাসী। ইনারা একে অপরকে এভাবেই খুশি করে— জানো, আর অতো ঘন্টা পরই তোমার শুভ জন্মদিন!

হাসিরও জন্মদিন রয়েছে। রয়েছে মানে খুব করে রয়েছে। এই জন্মদিন পালনও করা হয়। করা হয় বেশ ঘটা করেই। এতে একদম গরু ছাগল জবাই করা হয়ে থাকে ডজনে ডজনে। কেক কাটা হয় আট-দশটি। প্রতিটি কেকই দেড় কিলোমিটারজুড়ে লম্বা। তবে এই হাসি মানে আপনার পরিচিত বোন হাসি আক্তার নয় কিন্তু। এটি দৈনিক ইত্তেফাকের ফান সাপ্লিমেন্ট হাসি। নাম ঠাট্টা। ঠাট্টা মানে মশকরা-তামাশা। এখানে সিরিয়াসনেসের প্রশ্নই ওঠে না। আর এই কারণেই ঠাট্টার জন্মোত্সবে শুভেচ্ছা জানানো অন্যায়। কারণ শুভেচ্ছা—আগা-গোড়া পুরোটাই সিরিয়াস বিষয়।

তাহলে এখন কী করা যেতে পারে? হ্যাঁ, করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার এখনো সম্ভব না হলেও এর একটা সহি সমাধান বের করা হয়েছে। সেটি হচ্ছে, ঠাট্টার নামের আবেদনে মশকরা হিসেবে— ‘দোস্ত কী খবর বল’ উচ্চারণ করেই পিঠের ওপর থাপ্পড় দিতে হবে ঠাস করে। সেইসঙ্গে এটিও বলতে হবে— জন্মদিনের শুভ ঠাট্টা। প্রশ্ন জাগতে পারে, এই থাপ্পড় কার পিঠে দিয়ে মশকরা করতে হবে। দেখুন, কাগজের ঠাট্টায় তো আর থাপ্পড় দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। এই কাগজের ঠাট্টার একজন সম্পাদক তো রয়েছেন। অবশ্য তার পিঠ আছে কি নাই—সেটি আমি বলব না। কারণ, সব কথা বলতে নেই।